৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ ইটভাটায়: বাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘বায়ুদূষণে বংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন অবস্থানে রয়েছে’ – এ তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বলছে, ইটভাটাই ৩০ শতাংশ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী।

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে বাপা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সারাদেশে কমবেশি ১০ হাজার ইটভাটা রয়েছে এবং প্রায় অর্ধেক রয়েছে ঢাকা শহরের আশপাশে। এসব ইটভাটায় নিম্নমানের কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার ফলে তা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ ঘটায়।

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-বায়ূদূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য দূষণজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা থেকে বেশি। মোট ১৭৮টি দেশের মধ্যে সার্বিক জীবন মানের ভিত্তিতে পরিবেশগতভাবে সুরক্ষিত দেশেগুলোর তালিকায় বাংলাদেশে অবস্থান ১৬৯তম এবং শুধু বিশুদ্ধ বাতাসের নিরিখে করা পৃথক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৮ তম। নেতিবাচক অর্থে আমরা বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন অবস্থায় রয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের কারণে দুই লাখ ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ওই বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যু সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ২৮৬ জন এবং নানা রোগব্যাধিতে মোট মৃতের সংখ্যা ছিল আট লাখ ৪৩ হাজার।

পরিবেশ দূষণের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষার দাবি জানিয়ে পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা বলেন, আমরা জানি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সৃষ্ট দূষণের দায়ভার যদিও আমাদের কম ছিল, কিন্তু তা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ আমাদের দেশে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণী মতে- গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমণের মাত্রা এখনই কমিয়ে আনা না গেলে আগামী ১২ বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ সুরক্ষায় বেশকিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো, কাঠ পোড়ানো বন্ধ করা, ১৬ বছরের ও তার বেশি ব্যবহৃত যানবহন ব্যবহার বন্ধ করা, সব বড় সড়কের পাশে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, মাটিবাহী ট্রাক ও গরুর গাড়ি থেকে বালি ও মাটি পড়া বন্ধ করা, সারাদেশে গাছ লাগানো বৃদ্ধি ও ধুমপান হ্রাস করা।

সংবাদ সম্মেলনে বাপা’র সহসভাপতি অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মোল্লাহ, মিহির বিশ্বাসসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।