১ মাস ২১ দিনের কারাজীবন : কোটা আন্দোলনকারী

মশিউর রহমান : কোটা আন্দোলনে এটাই সর্বোচ্চ কারাবাস। আর আমিই সেই সৌভাগ্যবান যে ২০১৮ সালে এসে দেশের জন্য এমন একটি গৌরবজনক কাজ করতে পেরেছি।এজন্য আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমি কারাগারে যাওয়ার দুদিন পরে আমাদের আন্দোলনের আরও ৬ জন কারাগারে যায় এবং ওরা তার দুদিন পরেই জামিনে মুক্ত হয়। এর মধ্যে ফারুক ভাই,জসীম ভাইও কারাগারে যায়।প্রথম তিনদিন আমি অনেক কান্না করেছিলাম। অচেনা অপরিচিত একটি জায়গায় আহত শরীর নিয়ে একা একা থাকতে হয়েছে।একটু সামান্য ওষুধ পর্যন্ত আমাকে দেওয়া হয় নি।ছাত্রলীগ আমাকে মেরে শাহাবাগ থানায় দিয়ে আসার পরে আমি পুলিশকে সকল সত্য ঘটনা খুলে বলার পরেও তারা আমাকে থানায় আটকে রাখে।আমাকে শাহাবাগ থানায় আটক করার পরেও আমাকে তারা শাহাবাগ থানায় আটক রাখতে সাহস দেখায় নি।তারা আমাকে রমনা থানায় পাঠিয়ে দেয়।তারা সেখান থেকে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়।হাসপাতালের চিকিৎসকরা আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেও তারা আমাকে আবার রমনা থানায় নিয়ে যায়।এবং সারারাত আটকে রাখে।আমি প্রচণ্ড ব্যথায় কান্না করলেও তারা আমার প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতিশীল হয় নি।আমাকে বলা হয়েছিলো যে আমাকে পরের দিন ছেড়ে দেওয়া হবে;কিন্তু না,তারা অসুস্থ শরীর নিয়েই একটি মিথ্যা-বানোয়াট মামলায় আমাকে ডিবির মাধ্যমে কোর্টে চালান করে দেয়।এর মধ্য বিকেলে আমার তিন বন্ধু শাহাবাগ থানায় আমার খোঁজ নিতে গেলে আমাকে আটকের বিষয় পুলিশ তখন অস্বীকার করে।পুলিশকে শতোবার অনুরোধ করার পরেও তারা আমার আটকের বিষয়টি আমার পরিবারকে জানায় নি।শোষককে আটক না করে এদেশে শোষিতদেরকে আটক করা হয়।তাদেরকে বার বার রিমান্ডে নেওয়া হয়।একটু কিছু হলেই আইসিটি আইনে মামলা করা হয়।আমার ফেইসবুক আইডি আজও ওদের নিয়ন্ত্রণে।আমরা কার নামে মামলা করবো!?
কোন আইনে মামলা করবো!?
কোথায় মামলা করবো!?
কার কাছে মামলা করবো!?
কে নিবে আমাদের মামলা!?
তবে কি এটাই আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ!?