১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় খুলনার উত্তরা ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে­ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত

খুলনা প্রতিনিধি : সোমবার ওই পাঁচজন মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- উত্তরা ব্যাংক স্যার ইকবাল রোড শাখার প্রাক্তন ডিজিএম এটিএম মোতাব্বের হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার মারুফুল ইসলাম, প্রাক্তন ম্যানেজার রতন কুমার বনিক, সিনিয়র অফিসার আলমগীর হোসেন ও পিয়ন মো. লুৎফর রহমান লিটন।
এ মামলার প্রধান আসামি দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পাট রপ্তানিকারক সুজিত কুমার ভট্টাচার্য্য ওরফে লক্ষ্মণ বাবুর জামিন আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত মঞ্জুর করা হয়েছে। মামলার ২নং আসামি লক্ষ্মণ বাবুর স্ত্রী দৌলতপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মিতা ভট্টাচার্য্যর সময় প্রার্থনাও মঞ্জুর করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে উত্তরা ব্যাংক থেকে তিন প্রকারে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন উত্তরা জুট ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী সুজিত কুমার ভট্টাচার্য ওরফে লক্ষ্মণ বাবু। কিন্তু সময়মত ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১৫ সালে এসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ কোটি টাকা। ব্যাংকের তদন্তে পেজ ঋণ নেয়ার পর গুদামে ১৮ কোটি টাকার পাট ঘাটতি ধরা পড়ে। এ সময় তার গুদামে মাত্র এক কোটি টাকার পাট পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১১ জুন উত্তরা ব্যাংক খুলনা শাখার ডিজিএম মো. ইব্রাহিম উদ্দিন নগরীর দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার নং-৮। মামলায় প্রতারণা করে ব্যাংক থেকে ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
দুদক খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করেন। মামলা দায়েরের ১০ মাস পর নূর নগর এলাকা থেকে সুজিত কুমার ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১১ মে তদন্ত কর্মকর্তা সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
প্রসঙ্গত, ‘খুলনায় লক্ষণ বাবুর কাণ্ড, ১৮ কোটি টাকার পাট ব্যাংকে আছে গুদামে নেই’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৎপর হয়ে উঠে খুলনা দুদক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপ-পরিচালক আব্দুল হাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত আবেদনে জানিয়েছেন, মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলহাজতে আটক রাখা দরকার।
এই আবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের তথা সরকারি পাট আত্মসাৎ করে ৪০৬/৪২০ দণ্ডবিধি ধারায় তিনি অপরাধ করেছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি সজিত কুমার ভট্রাচার্ষ অন্যন্যদের সহয়তায় বর্ণিত গুদামের ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করে গোপনে গুদাম থেকে অন্যত্র পাট সরিয়েছেন। ব্যাংকের অনুকূলে মটগেজকৃত চারটি গুদামের তিনটিতে কোনো পাট নেই। একটিতে মাত্র ৩৪৭ বেল পাট ছিল। অথচ ব্যাংকের খাতাপত্রে চারটি গুদামে মোট ১৫ হাজার ৮৫২ বেল পাট থাকার কথা। তিনি মোট ১৮ কোটি ৬০লাখ ৬০ হাজার টাকার পাট আত্মসাৎ করেছেন