১৫ আগস্ট খালেদা লন্ডনে কেক কাটলে জবাব পাবেন: হাছান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দিনটিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে জন্মদিন হিসেবে পালন করলে এর জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘খালেদা দেশে ফিরলে এর জবাব পাবেন।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক আলোচনায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কথা বলেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ নামে একটি সংগঠন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।আর ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে খালেদা জিয়া ১৫ ওই আগস্টকে তার জন্মদিন হিসেবে পালন শুরু করেন। যদিও ৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো জীবনবৃত্তান্তে খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে অন্য একটি তারিখ জানানো হয়েছিল।জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত বছর খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট কোনো আনুষ্ঠানিকতা রাখেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে তখন জানানো হয়, দেশে বন্যার্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে খালেদা জিয়া তার জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করেছেন। তবে ওই দিন বিএনপির কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।গত ১৫ জুলাই থেকে খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। তিনি ১৫ আগস্টের আগে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে দলের নেতারাও কিছু জানাতে পারছেন না। আর ১৫ আগস্ট গত বছরের মতই খালেদা জিয়ার জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা বাতিল হবে কি না, সেটাও জানেন না কেউ।হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আগস্ট মাস আসলেই তো তার (খালেদা জিয়া) কেক কাটার ধুম পরে যায়। লন্ডনে বসে কেক কাটলেও দেশে ফেরার পর তাকে কঠোর জবাব দেয়া হবে।’লন্ডনে খালেদা জিয়া কখন, কোথায়, কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এসব তথ্য জানা আছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘জঙ্গি গোষ্ঠীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের কথা নাকি সত্য নয় জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। কথায় আছে না ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না।’জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে বিএনপির দাবির সমালোচনাও করেন হাছান মাহমুদ। বলেন, বিএনপি সেনাবাহিনীকে দিয়ে পুলিশের কাজ করাতে চায়। তার দাবি, শুধু এখনই নয়, অতীতেও বিএনপি সেনাবাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে নাগরিক সমাজের বেশ কয়েকজন সদস্য জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়টির উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সুশীল সমাজের কয়েকজনের বক্তব্যের পর বিএনপি উল্লাস করে বলেছে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী প্রয়োজন। …কিন্তু আমরা সেই সেনাবাহিনীকে কোনো বিতর্কিত ভূমিকায় নিয়োজিত করতে পারি না।’‘তাই আমাদের পক্ষ থেকে যেটি বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী অবশ্যই স্ট্রাইকিং ভূমিকায় থাকতে পারে। সেনাবাহিনীকে তো পুলিশের কাজে লাগানো সঠিক নয়।’২০১৪ সালের কথা মানুষ ভুলে যায়নি উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বানচাল করতে আপনারা পেট্রল বোমার আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাসে ট্রাকের ড্রাইভার থেকে সাধারণ মানুষ এমনকি পশুপাখিও আপনাদের হাত থেকে রেহাই পায় নাই। এসব কর্মকাণ্ডের পর মানুষ আর কখনই বিএনপিকে সমর্থন করবে না।’আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাস, ২৬ ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক প্রমুখ।