১১ নোবেলজয়ী ও ১৭ বিশিষ্টজন শহিদুল আলম ও শিক্ষার্থীদের মুক্তি চান

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের শর্তহীন মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ডেসমন্ড টুটু, শিরিন এবাদিসহ ১১ নোবেলজয়ী ও বিশ্বের ১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এক বিবৃতিতে সই করে তাঁরা এই দাবি জানান।

রোববার মার্কিন অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শ্যারন স্টোন তাঁর ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্টে ওই বিবৃতি পোস্ট করে দাবির পক্ষে সমর্থন জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে দুই সপ্তাহ আগে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে হাইস্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। তারা নিরাপদ সড়ক, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়, পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের লোকজনের হামলার শিকার হয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সংবাদ কাভারের জন্য কর্তব্যরত সাংবাদিকেরা। আন্দোলন শুরুর কয়েক দিন পর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাস্তায় নেমে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তখন তাঁদের গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। যেসব মামলায় তাঁদের রিমান্ড ও কারাদণ্ড হতে পারে।’

শহিদুল আলমকে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী হিসেবে অভিহিত করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই ৫ আগস্ট সন্ধ্যার পর বেআইনিভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের হাতে শহিদুল তাঁর বাড়ি থেকে অপহৃত হন। গত সপ্তাহে তাঁকে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আন্দোলনরত কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলার ছবি তোলা এবং আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে শহিদুল আলমের দেওয়া সাক্ষাৎকার বাক্‌স্বাধীনতার চর্চাকে অপরাধ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আটকের সপ্তম দিনে ১২ আগস্ট আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর হাকিমের আদেশে হঠাৎ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ দিকে বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে বিবৃতিতে সই করা বিশিষ্ট অপর ১৭ ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রো হারলেম ব্রান্টল্যান্ড, বিশিষ্ট উদ্যোক্তা স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন, মার্কিন লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী কেরি কেনেডি, ভারতের অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শাবানা আজমি, হলিউড অভিনেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শ্যারন স্টোন, হাফিংটন পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ানা হাফিংটন ও চলচ্চিত্র পরিচালক রিচার্ড কার্টিস।

বিবৃতিতে সই করা নোবেল বিজয়ীরা হলেন:

১. আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু (১৯৮৪ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

২. তাওয়াক্কল কারমান (২০১১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

৩. মাইরিয়াড ম্যাগুইরে (১৯৭৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

৪. বেটি উইলিয়ামস (১৯৭৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

৫. অস্কার এরিয়াস (১৯৮৭ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

৬. স্যার রিচার্ড যে. রবার্টস (১৯৯৩ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেলজয়ী)

৭. হোসে রামোস-হর্তা (১৯৯৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

৮. জোডি উইলিয়ামস (১৯৯৭ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

৯. শিরিন এবাদি (২০০৩ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

১০. প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনূস (২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

১১. লেহমাহ বয়ই (২০১১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী)

Inline
Inline