হালদায় বাড়ছে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : হালদা নদীতে মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে। ডিম ছাড়ার মৌসুমে প্রতিদিন চলছে শত শত যান্ত্রিক নৌযান, চলছে মাছ শিকার। চৈত্র মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউস ডিম ছাড়ে। মৌসুমের শুরুতে গত ১১ মার্চ বৃষ্টি হলে হালদা নদীতে প্রচুর পরিমাণ মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে বলে হালদা নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন জানান। নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। হালদা নদীর নাজির হাট থেকে কালুর ঘাট পর্যন্ত সারা বছর মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। হালদার সাথে সংযুক্ত রাউজানের সর্তা খাল, তেলপারই খাল, সোনাইর খাল, কাগতিয়া খাল, ডোমখালী খাল, মগদাই খাল, বইজ্যাখালী খাল, উভলং খাল, হাটহাজারীর বোয়ালিয়া খাল, খন্দকিয়া খালেও মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে মাছ শিকার করা নিষিদ্ধ করা হয়।তবে এবার মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে নদীতে মাছের আনাগোনা দেখা গেলেও মাছ শিকার ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্ধ হয়নি। দেখা গেছে, রাউজানের পশ্চিম নদীমপুর, কোতোয়ালী ঘোনা, পশ্চিম গহিরা বদুর ঘোনা, মঘাশাস্ত্রী বড়ুয়া পাড়া, সিপাহির ঘাট, পশ্চিম বিনাজুরী, কাগতিয়া সুইস গেট, কাগতিয়া কাসেম নগর, আহিমের ঘাট, মগদাই সুইস গেট, পশ্চিম আবুরখীল, উরকিরচর, মদুনাঘাট, সার্কদা, মোকামী পাড়া, কচুখাইন এলাকায় ও হাটহাজারীর মেখল, গড়দুয়ারা, মাদ্রাসা, দক্ষিণ মাদ্রাসা, আমতোয়া, রামদাশ মুন্সির হাট এলাকায় শত শত যান্ত্রিক নৌযান করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।পাশাপাশি মোকামী পাড়া কচুখাইন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। এসব এলাকায় নদীতে নৌকা নিয়ে, নৌকার মধ্যে বসে নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করতে দেখা যায়। হাতজাল দিয়েও মাছ শিকার করছে কেউ কেউ। হালদা নদীতে মাছ ছাড়ার ভরা মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচল করায় হালদা নদীতে আসা মা মাছের প্রজনন হ্রাস পাচ্ছে। ডোমখালী এলাকার ডিম সংগ্রহকারী সাবেক মেম্বার আবু তাহের বলেন, একসময় হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে অর্ধলক্ষ্য নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহ করা হতো। সংগ্রহকারীরা ঐ সময়ে প্রচুর পরিমাণ ডিম পেতো। ডোমখালী এলাকার ডিম সংগ্রহকারী সাবেক মেম্বার আবু তাহের আরো বলেন, আমি নিজেই একটি নৌকা নিয়ে ৫০ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছি। বাঁক কেটে ফেলা ও হালদা নদীর সাথে সংযুক্ত খালগুলোতে সুইস গেট নির্মাণ করার পর থেকে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে পানির স্রোত কমে যাওয়ায়, নদী ভরাট হয়ে গভীরতা কমে যায়, হালদা নদীর মোহনায় কচুখাইন, সার্কদা, এলাকায় নদী থেকে মা মাছ শিকার, কর্ণফুলি নদী ও হালদায় নেট জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা নিধন করায় মা মাছের ডিম ছাড়া ব্যাপক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ডোমখালী জেলে পাড়ার বাসিন্দা হরিহর জলদাস বলেন, এক সময় হালদা নদীতে মাছ শিকার করে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতাম। মাছ শিকার নিষিদ্ধ করার পর হালদা নদীর পাশেও আমরা জেলেরা যাই না। মাছ শিকার না করে দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। হালদায় এ সময়ে যান্ত্রিক নৌযান ও মাছ শিকার করা প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, মাছ শিকার ও যান্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্ধ করার জন্য আনসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আনসার বাহিনীর সদস্যরা বোট নিয়ে নদীতে প্রতিনিয়ত টইল প্রদান করছে।