হাওরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নীতিমালা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের হাওর এলাকাগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ও সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ জরুরি। হাওরাঞ্চলে জলমহলগুলোর ইজারা প্রথা বাতিল, মৎস্য চাষ ও কৃষির বহুমুখী ব্যবহার, ভাসমান স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং পর্যটন খাত সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ ও নিবিড় পর্যালোচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর আয়োজনে ‘হাওর এলাকাগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়। এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।ফ্রেডরিখ নুউম্যান ফাউন্ডেশন (এফএনএফ)-এর সহায়তায় এফবিসিসিআই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে পল্লী কর্মসংস্থান ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম এবং এফএনএফ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. নাজমুল হোসেনসহ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং এসএমই ফাউন্ডেশন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, পশু সম্পদ বিভাগ, মৎস্য অধিদপ্তর, কৃষি ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।এফবিসিসিআইর সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) তাঁর বক্তব্যে দেশের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকার উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের উন্নয়নের পেছনে কৃষি উদ্যোক্তা তথা কৃষক, মৎস্যজীবীদের অসীম অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির পেছনে কৃষিখাত অসামান্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এফবিসিসিআই সভাপতি হাওর নিয়ে এ আলোচনা আয়োজনের জন্য এফএনএফ কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ বিশেষজ্ঞ আলোচনা থেকে যেসব মতামত বেরিয়ে এসেছে তা হাওর এলাকার উন্নয়নে নীতিমালা তৈরিতে বিশেষ সহায়ক হবে।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তাজ উদ্দিন। ড. তাজ তাঁর উপস্থাপনায় হাওর অঞ্চলগুলোতে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও তিনি হাওর এলাকার উৎপাদনশীলতা এবং বাণিজ্যিক দিকটিতে আলোকপাত করেন।প্রসঙ্গত, এফবিসিসিআই এর আগে এফএনএফ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোতে এলাকাভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন করেছে। ইতিপূর্বে রাজশাহীর রেশম শিল্পের উন্নয়ন, খুলনার হিমায়িত মৎস্য শিল্পের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলের মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়নে ও সিলেট অঞ্চলেও এফবিসিসিআই সেমিনারের আয়োজন করে।এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সাতটি জেলায় যে ৩৭৩টি হাওর রয়েছে সেসবের অর্থনৈতিক দিকটিকে গুরুত্ব দিয়ে এফবিসিসিআই কার্যকর কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে।