স্বামীসহ ইউএস-বাংলার তিন পাইলট এর বিচার চান মিলা

ডেস্ক রিপোর্ট : জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মিলা। ২০১৭ সালের মে মাসে পারভেজ সানজারির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পরেই অনিয়িমিত হয়ে যান গানে। পরে জানা যায় স্বামীর সাথে দ্বন্দ্বেই তিনি গানে মনোযোগ দিতে পারছিলেন না। স্বামী বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলাও করেছেন মিলা।


সংসার জীবনের ইতি টেনে ইতোমধ্যে আবারও গানে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন এই সঙ্গীত শিল্পী। এরই মধ্যে মঙ্গলবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে বিচার চেয়েছেন মিলা।

মিলার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

কত কত জীবিত ‘নুসরাত’ আইন এর কাছে দাঁড়ান দিনের পর দিন। কিন্তু না মেরে ফেলা পর্যন্ত তাদের জন্য কোনও আওয়াজ উঠবে না। আইন দেশের সুন্দর। দুই বছর হয়ে যাচ্ছে, কোর্ট এ উল্টা জঘন্য ভাবে চিৎকার দিয়ে অপবাদ দেয়া হয় আমাকে। বিচার তো দূর। দাখিল করা ‘খ’ ধারার চার্জশিট আমাকে না বুঝতে দিয়ে ‘গ’ ধারায় মামলা চার্জ গঠন করা হয়।


আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমার জানা ছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কোন রকমের হস্তক্ষেপে নেত্রীর কঠোর নিষেধ রয়েছে। তিন বার আদালতের আদেশ টানা অমান্য করলে জামিন বাতিল হবার কথা। পাঁচ বার আমাকে কোর্ট নানান বুঝ দিয়ে পার্মানেন্ট জামিন দেয়। আমি এখন বলতেও পারি নাই শেষের দিন আমার শাশুড়ি আমার স্বামীর কথায় আমাকে কিভাবে বাথরুম থেকে দরজা ভেঙে বিনা কাপড় পরিহিত অবস্থায় জঘন্য ভাবে টেনে আমার দেবর তার স্ত্রী এবং তার স্ত্রীর বাবা মায়ের সামনে এক ঘন্টা গালিগালাজ করতে থাকে। আমার বাবা ভাইবার এ ভিডিও কলের মাধ্যমে পুরা টা ঘটনা দেখে। এক পর্যায়ে আমি হাত জোড় করে ভিক্ষা চাই এই বলে ‘আম্মু আমাকে মেয়ে বলে নিয়ে আসছিলেন।.আমার গায়ে কাপড় নাই, দয়া করে আমাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে যা বলার বলেন। কিন্তু এই অপমান করেন না। ভিডিও টা এখনও আমার কাছে আছে।
দেশের শিল্পী আমি? আজকে এই টাও বলে ফেললাম, এর চাইতে কাপড় পড়া অবস্থায় আমার গায়ে আগুন দিয়ে দিত। আমি যাই বললাম তাতে পুরা মিডিয়া, শিল্পীরা, আমার ভক্তরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার কথা। কাপড় ছাড়া ঐ ছেলেকে রাস্তায় নামিয়ে জুতার বাড়ি দিয়ে মারার কথা। তাইনা? আমার এই পোস্টটাই তো সবার শেয়ার করার কথা তাইনা? কেও করবে নাহ্‌। কেও নাহ। কারন আমি বেঁচে আছি। এই মিলা কেন এখনও প্রতিদিন চিৎকার করে কাঁদে উত্তর পাও তোমরা? আমি দেশের জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী?
এখনও আজকেও বার বার “US-BANGLA” র এমডি কে কল দিয়েছি…কথা বলতে চেয়েছি। ‘কেন আমার ন্যায্য বিচার তারা তাদের ক্ষমতা দিয়ে আটকে রেখে ওই কুলাঙ্গার কে চাকরিতে রাখছেন? কীভাবে আমার উপর এত অন্যায় এর পর US-BANGLA cabin crew er সাথে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ওই জঘন্য ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরও এই ছেলেকে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে US-BANGLA এমডি সবাইকে বলে বেড়ান যে “That in any cost এই মেয়েকে জিততে দিবো না’।
দেশের নাগরিক হিসেবে আজকে এই বলব… ওই ছেলের বিচার চাই আমি তাইলে… US-BANGLA আরো দুইজন পাইলট যারা আমাকে রাস্তায় রাস্তার অপদস্থ করে নোংরা কথা বলে.. তাদের নাম rezwan ahmed khan ও shams rezwan। তারা শুধু আমাকে না বরং আমার বাবা কে নিয়েও প্রকাশ্যে গালি দেয়া.. উল্টা দিকে এরা আমাকে ICT ACT এর হুমকি দিতে থাকে। আমি US-BANGLA র এই তিন জনের বিচার চাই…আমি আমার দেশ ও দেশের সরকার এর কাছে আমার ভেঙে দেয়া মেরুদণ্ড ফিরে চাই…ফাইলের উপর ফাইল করা সকল প্রমাণ আমার কাছে জমা। কিন্তু বাকিদের বিচার কই চাইব?এদিকে ওই ছেলে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য বিভিন্ন বিদেশি এয়ার লাইনে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমার আবেদন আমার নেত্রীর কাছে, আমার অপরাধী যাতে পালাতে না পারে.. আমার মামলা টি দয়া করে আবারো সঠিক ধারায় চার্জ শিট গঠন করার আর্জি জানাই। গত দশ দিন আগে আমি ওই ছেলেকে হাতে নাতে পতিতা নিয়ে ধরলে ওই ছেলে আমাকে গুলি করে হত্যা করে সেলফ ডিফেন্স বলে প্রমাণ করে দিবে ” বলে আমাকে আর আমার বাবাকে sms করে। গুলি খাওয়ার আগে বিচার চাই। বিচার চাই।আমি বিচার চাই।