স্বর্ণ আত্মসাতে তিন পুলিশের কারাদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক : চোরাচালানের উদ্ধারকৃত স্বর্ণ বার আত্মসাতের মামলায় রাজধানীর রামপুরা থানার পুলিশের এসআই মঞ্জুরুল ইসলামসহ তিন পুলিশ সদস্যের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান কারাগারে থাকা ওই আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডিত অপর দুই পুলিশ সদস্য হলেন, রামপুরা থানার কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও কনস্টেবল ওয়াহিদুল ইসলাম।

অপর আসামি পুলিশের সোর্স মাহফুজ আলম রনির তিন বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

২০১৪ সালের ১৩ মার্চ রামপুরা থানা পুলিশ রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় একটি মাইক্রোবাস থেকে ২৩৫টি সোনার বারসহ গাড়ি আটক করে। ওই সময় মাইক্রোবাস রেখে পালানোর সময় সমীর ও মুহিন নামের দুই ব্যক্তি আটক হন। ঘটনার তিন দিন পর ৭০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার দেখিয়ে সমীর ও মুহিনের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় একটি চোরাচালান মামলা দায়ের করা হয়। থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ওই দুই আসামি গাড়িতে ২৩৫টি সোনার বার ছিল বলে জানান।

পরে ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার (এখন র‌্যাবের ডিজি) বেনজীর আহমেদের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ডিবি।

ডিবির পৃথক তিনটি দল নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের তিন সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে বাকি ১৪৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

পরে ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনায় রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালাকে প্রত্যাহার করা হয়।

মামলাটিতে ২০১৫ সালের ১৪ মে আদালতে দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম দণ্ডিত চারজনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

একই বছরের ১৫ অক্টোবর মামলাটিতে আদালত অপর আসামি মাইক্রোবাস চালক সজিব শিকদারকে অব্যাহতি দিয়ে দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে। বিচারকালে আদালত ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। দুদকের পক্ষে আদালতে প্রসিকিউটর রুহুল ইসলাম খান মামলা পরিচালনা করেন।

Inline
Inline