স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৩ ধর্ষক আটক

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা: সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গায় জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) রাত দেড়টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাদুল্যাপুর থানায় এ মামলা করেন।
মুল আসামী সোহাগ নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক দুদু মিয়ার ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন, কিশামত হামিদ গ্রামের গ্যারেজ মাহাফুজ রহমানের ছেলে বাবু মিয়া (২২), পশ্চিম খামার দশলিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২১), একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে রুবেল মিয়া (২২) ও দশানি গ্রামের শাহেদুলের ছেলে খুশু মিয়া (২৩)। এদের মধ্যে সোহাগ, বাবু ও শরিফুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। অপর দুই আসামি রুবেল ও খুশু মিয়া পলাতক রয়েছে।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজনের মধ্যে বাবু ও শরিফুল ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া পলাতক অপর দুই আসামি রুবেল ও খুশু মিয়া তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায় বাবু ও শরিফুল। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ভাইয়ের মেয়ে শুক্রবার বিকালে তার মায়ের সঙ্গে নলডাঙ্গা বাজারে যায় কাপড় কিনতে। কাপড় কেনার পর মেয়েকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে নিজের বাবার বাড়িতে চলে যান তার মা। এরপর স্কুলছাত্রী পায়ে হেঁটে একাই বাড়ি ফিরছিল। পথে সরকারি খাদ্য গুদাম এলাকায় আসলে সোহাগ তাকে আটকায়। এসময় সহযোগী শরিফুল, বাবু, রুবেল ও খুশু ওড়না দিয়ে মেয়েটির মুখ বেঁধে আখ ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের সময়ে চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে শরিফুল ও বাবুকে হাতেনাতে এবং পরে রেল গেটের দোকান থেকে সোহাগকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে স্থানীয়রা।
এর আগে, ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার ও তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় সোহাগের বাবা যুবলীগ নেতা দুদুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।