সোনালী ব্যাংক কষ্ট দেয়, আনন্দও দেয়: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংকের অনিয়মের কারণে কষ্ট পেলেও অনেক ক্ষেত্রে আনন্দ দেয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকের বিরুদ্ধে অনেক কথা, আপত্তি থাকার পরও আমরা এগুলোকে রাখি, পুষি।বুধবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে প্রাণ ডেইরির সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের ঋণ প্রদান সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহিত বলেন, ‘সরকারি ব্যাংক থেকে কৃষক যে সুযোগ-সুবিধা পায় বেসরকারি ব্যাংক থেকে তা পায় না। সোনালী ব্যাংক ঋণ খেলাপি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আমাদের কিছু কষ্ট দিলেও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের আনন্দও দেয়। দুগ্ধ উৎপাদনে সোনালী ব্যাংক কৃষকদের ঋণ দেয়ার মতো যে কাজ করছে এতে আমরা খুশি। এ ধরনের কাজই সোনালী ব্যাংক করে। আজকে প্রাণের মাধ্যমে কৃষকরা যে ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।’প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আমজাদ খান চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮১ সালে তার সঙ্গে সম্পর্ক শুরু হয়, যখন তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান।‘আমজাদ খান চৌধুরীর এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিতে আগ্রহ ছিল। তিনি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন নিয়ে কথাবার্তা বলতেন আমার সঙ্গে। আজ তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান দেশের এগ্রো খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান।’
সম্প্রতি বন্যার কারণে দেশে যে বিপত্তি হচ্ছে তা খুবই সাময়িক মন্তব্য করে মুহিত বলেন, ‘আকস্মিক বন্যার কারণে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। চালের দাম বেড়ে গেছে। এজন্য সামনে অনেক চাল আমদানি করা হচ্ছে। এতে অনেক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তবে দেশের মানুষের জন্য সরকার উচ্চ ব্যয়েই চাল আমদানি করবে।’
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (কর্পোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী এবং সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম। চুক্তি অনুযায়ী, প্রাণ ডেইরির তালিকা অনুযায়ী তাদের চুক্তিবদ্ধ খামারিদের স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, প্রাণ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধাসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।