সৈয়দপুরে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু

নীলফামারী, ২৮ জুন, ২০১৮ : পুষ্টিমানে ভরপুর বিদেশী ড্রাগনের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে জেলার সৈয়দপুরে। ইতোমধ্যে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে দুটি বাগানে ফল আসতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্র জানায়, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কামারপুকুর অসুরখাই এবং আইসঢাল গ্রামে ৪ জন উৎসাহী কৃষক ড্রাগন ফলের বাগান করেছেন। ইতোমধ্যে কামারপুকুর অসুরখাই গ্রামের আদর্শ কৃষক সজীব সীডএর স্বত্ত্বাধিকারী মো. আহসান-উল-হক বাবুর ৬০ শতক বাগানে ফল আসতে শুরু করেছে। এছাড়া ওই গ্রামের মো. রাশেদুজ্জামান মানিক ও মো. সাজেদুর রহমান লেবু এবং কামারপুকুর আইসঢাল গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাক ১০ শতাংশ করে জমিতে ড্রাগন বাগান করেছেন। তাদেরকে দেখে এখন অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন ড্রাগন চাষে।
ড্রাগন চাষি মো. আহসান-উল- হক বাবু জানান, কৃষি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে ড্রাগন চাষের বিষয়ে জানতে পেরে পুষ্টিমানের ওই ফল চাষে আগ্রহী হন তিনি। এরপর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরো ধারণা নিয়ে ৬০ শতক জমিতে ড্রাগন বাগান তৈরি করেন ২০১৬ সালে।
তিনি বলেন, ‘ধারণা পাওয়ার পর যশোর থেকে চারা সংগ্রহ করি। এরপর ওই সালের সেপ্টেম্বর মাসে পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি পিলারের পাশে ৪টি করে চারা রোপণ করি। গাছ বড় হয়ে উঠলে পিলারের মাথায় গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার বেঁধে দেই। ওই টায়ারে গাছ ছড়িয়ে পড়ে ১১ মাসের মধ্যে বাগানে ফল আসে। একটি ড্রাগন গাছ ২০ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। সে হিসেবে অল্প সময়ের মধ্যে খরচের টাকা উঠিয়ে আশানুরূপ লাভ পাওয়া যাবে।’
তিনি জানান, ৬০ শতকের ওই বাগান থেকে প্রথম ধাপে মাত্র ২৫ কেজি ড্রাগন ফল মিলেছে। এসব ফল তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করেন। এ বছর ওই বাগানে ৭০ কেজি ফল পেয়েছেন তিনি। প্রতিটি ফলের ওজন হয়েছে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত। এবার ৪০০ টাকা কেজি দরে ২৮ হাজার টাকা পেয়েছেন ওই বাগান থেকে। তার বাগানে ২ হাজার গাছ রয়েছে।
অপর চাষি মো. রাশেদুজ্জামান মানিক জানান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে ড্রাগন বাগান করেন তিনি। তার বাগানেও দ্বিতীয় ধাপে বেশ ফল আসে। সর্বোচ্চ সাড়ে ৮শ’ গ্রাম পর্যন্ত এক একটি ফল পেয়েছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. হোমায়রা ম-ল বলেন, ‘ড্রাগন বিদেশী ফল হলেও এখানকার আবহাওয়া ও মাটি চাষের জন্য উপযোগী। ফলে এখানে ড্রাগন চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের দু’টি কৃষি ব্লকে চারটি ড্রাগন বাগান করা হয়েছে। শুরুতেই এ সব বাগান থেকে ভাল ফলন মিলছে।’
তিনি জানান, ড্রাগন সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত ফল হওয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ফলের পরিচিত ও বাজার সৃষ্টির কাজ করছে। পাশাপাশি চাষিদেরকে দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজারের সাথে সংযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হচ্ছে। তাদের সফলতায় বাণিজ্যিক ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছে এলাকার কৃষক।