সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ সংকট দূর করেছে: মাহবুব তালুকদার

সিলেট সংবাদদাতা : নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আমরা চাই সারা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একজন ভোটার যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজ ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।

রোববার দুপুরে সিলেট বিভাগে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এবং চার জেলার প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ভোটে কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ যাতে আঙুল তুলতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে নজর রাখতে।

নির্বাচন-সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটার যাতে নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। নির্বাচন অর্থ হচ্ছে সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।

সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, আগামীকাল থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সেনাবাহিনী আমাদের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক। আমি মনে করি অতীতের সংসদ নির্বাচনগুলোতে সেনা মোতায়েনের মূল্যায়ন পর্যালোচনা করে নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সর্বোত্তম ব্যবহার আবশ্যক। এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ জাতির সংকট দূর করেছে।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটা কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচনী দায়িত্ব যারা পালন করবেন তাদের কাছে পক্ষপাতমূলক আচরণ আশা করি না। আমরা কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠী বা দলের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে দায়িত্ব পালন করতে আসিনি। সকল প্রার্থী আমাদের কাছে এক ও অভিন্ন। তাদের প্রতি আচরণে আপনাদের ভূমিকা হবে বিচারকের মত নির্মম। তাই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন আপনারা।

মাহবুব তালুকদার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আসনে যারা বসবেন, তারা ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে আসবেন, এটাই হবে প্রত্যাশা। পেশিশক্তি বা কালো টাকার মাধ্যমে কেউ যেন সেই আসনে বসতে না পারে। আমাদের স্বাধীনতার পূর্বশর্ত গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত নির্বাচন, তাহলে নির্বাচনকে অবশ্যই স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে হবে।

ডিসেম্বর বিজয়ের মাস উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, এটা বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীন হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শর্ত নিয়ে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারব না তা কখনো হতে পারে না। আমাদের দেশ ছোট হতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা অনেক বড়। তাই আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার এই নির্বাচনে আমরা অবশ্যই সফল হবো। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের ঋণ শোধ করি।