সেই পুলিশ কর্মকর্তা ও কথিত স্ত্রী রিমান্ডে

সিলেট সংবাদদাতা : সিলেটে জোরপূর্বক ইয়াবা সেবনের মাধ্যমে শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানোর অভিযোগে গ্রেফতার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তার কথিত স্ত্রীকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর মুখ্য হাকিম মোস্তাহিন বিল্লাহর আদালতে আসামিদের হাজির করে প্রত্যেকের পাঁচদিরেন রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরা হলেন- সিলেটের লালাবাজারস্থ ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও তার কথিত স্ত্রী রিমা বেগম (৩৫)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির আহমদ বলেন, ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মানবপাচার ও মাদক আইনে করা মামলায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করি। আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে সিলেটের লালাবাজারস্থ ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, রোকন ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে সিলেট মহানগর পুলিশ থেকে বদলি হয়ে লালাবাজারস্থ ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে আসেন।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে সিলেট নগরের দাড়িয়াপাড়া এলাকায় জোরপূর্বক ইয়াবা সেবনের মাধ্যমে শিশুদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানোর অভিযোগে এসআই রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও রিমা বেগম নামে এক নারীকে আটক করে র্যাব-৯। তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দাড়িয়াপাড়া এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করে এ অপকর্ম করে আসছিলেন। অভিযানকালে তাদের বাসা থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ও তাদের কাছে বন্দি থাকা দুই শিশুকে উদ্ধার করে র্যাব। পরে মানবপাচার ও মাদক আইনে র্যাব-৯ এর করা দুটি মামলায় তাদের আটক দেখিয়ে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া সিলেট নগরের মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে ও রিমা বেগম নেত্রকোনা জেলার কালিয়াজুড়ি থানার আটগাঁও গ্রামের মৃত মফিজুল মিয়ার মেয়ে। তারা দাড়িয়াপাড়া মেঘনা এ-২৬/১ বাসার নীচ তলায় শিশুদের দিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি এবং ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।