সুন্দরগঞ্জে তোহফা-তহুরার জন্য সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন

গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডল : দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১১ মাস ধরে এয়ার কমিশন (এসি) রুমে থাকার পর বাড়িতে এসে গরমে অস্বস্থিতে ছটফট ও কান্না করছিল সফল অপরেশনের মাধ্যমে আলাদা করা যমজ শিশু তোহফা-তহুরা। ফলে তাদের জন্মস্থল নানার বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছেন প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে বেসরকারী সংগঠন ফ্রেন্ডশীপের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার- এসএম গোলাম কিবরিয়া উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে তোহফা ও তহুরার নানা শহিদ মিয়ার বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে দেন। এসময় ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা- নুরুন্নবী সরকার, ফ্রেন্ডশীপ সংগঠনের জেলা সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, এসইডি কর্মসূচীর ইনচার্জ বিজয় কুমার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার- এসএম গোলাম কিবরিয়া জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে উঁরুতে জোড়া লাগানো অবস্থায় নানা শহিদ মিয়ার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করে তোহফ- তোহুরা। এরপর ১ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা হয়। ১০ মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তার তাদের নানার বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ছটফট ও কান্না করছিল। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক- গৌতম চন্দ্র পাল তাদের দেখতে গিয়ে সৌরবিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলেন। তাই তোহফা-তহুরার জন্য ঐ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছে। সঙ্গে ৫০ ওয়ার্টের সোলার প্যানেলের সঙ্গে ৩টি বাল্ব ও একটি স্লিং ফ্যান দেয়া হয়েছে। তোহফা-তহুরার মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর থেকে তারা গরমে ছটফট ও কান্না করছিল। ফ্যানের বাতাস পাওয়ার পর তারা এখন আর কান্না করছে না। হাত-পা নেড়ে খেলা করছে। ঢাকা মেডিক্যািল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে কন্যাদের নিয়ে বাবা রাজু মিয়া, মা শাহিদা বেগম ঐ বাড়িতে পৌঁছেন। রাজু মিয়ার নিজ বাড়ি একই উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম ঝিনিয়া গ্রামে। তিনি পেশায় রিক্সা-ভ্যান চালক।
এদিকে, তোফা-তহুরাকে এক নজর দেখার জন্য ঐ বাড়িতে উৎসুক জনতার ভীড় জমেছে বলে জানা গেছে।