সুনামগঞ্জে ১১ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার : মামলা নিতে গাফিলতি

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চার সন্তানের জনক কর্তৃক মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার হওয়ার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ ওই ঘটনায় মামলা নিতে গাফিলতি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে লোক লজ্জার ভয়ে ওই শিশু কন্যা ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসায় আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। মামলা না নিয়ে শিশু কন্যা ধর্ষণের মত ঘটনা টাকার বিনিময়ে সালিসে নিষ্পত্তির জন্য থানা পুলিশের তদন্তকারী অফিসার উল্টো ভিকটিমের পরিবারকে চাঁপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্যেও ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযোগটি রোববার দুপুর পর্যন্ত মামলা হিসাবে থানায় রেকর্ড করা হয়নি। এমনকি তদন্তকারী থানা পুলিশের এসআই ঘটনাস্থলে তদন্তই করতে যাননি বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ ও ভিকটিমের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর (উওর) ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাকমা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত হানিফার ছেলে চার সন্তানের জনক ধর্ষণকারী মতিউর রহমান(৩৪) একই পাড়ার স্থানীয় মহিলা মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের শিশু কন্যা গত ১০ অক্টোবর ট্যাকেরঘাট সীমান্তের মরাটিলায় লাঁকড়ি কুড়াতে গেলে হাত, পা ও মুখ বেঁধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনা চাঁপা দিতে শিশু কন্যাকে হত্যা ও লাশ গুমের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে কাঁধে করে শিশু কন্যাকে ভারতের পাহাড়ের গহীণে নিয়ে যাবার পথে ওপারের ভারতীয়দের ধাওয়ার মুখে পড়ে মতিউর ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায় সন্ধ্যায় টিলা থেকে ওই শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসলে ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের পরিকল্পনার বিষয়টি জানাজানি হয়।

ঘটনাটি রাতেই ভিকটিমের মা তাহিরপুর থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে অবহিত করে পরদিন ১১ অক্টোবর এ ব্যাপারে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্তভার দেয়া হয় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমির উদ্দিনকে।
এরপর রহস্যজনক কারনে ঘটনা তদন্তে রোববার দুপুর পর্যন্ত ওই অফিসার সরজমিনে আসেনি এমনকি অভিযোগটি মামলা হিসাবে রেকর্ডভুক্ত করেননি বলে জানায় ভিকটিমের পরিবার।

ভিকটিমের মা রোববার দুপুরে আরো জানান, অভিযুক্ত মতিউরের ভাই রফিকুল ও তার মা সাবেক ইউপি সদস্য সখিনা বেগমের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নানা অজুহাতে থানার তদন্তকারী অফিসার ঘটনা তদন্তে সরজমিনেই আসেননি এমনকি অভিযোগটি মামলা হিসাবে রেকর্ডভুক্ত না করে উল্টো টাকা পয়সা নিয়ে সালিসে নিষ্পত্তির জন্য চাঁপ দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘তদন্তকারী অফিসারের গাফিলতির কারনে ঘটনার আলামতই এখন নষ্ট হতে চলছে পরবর্তীতে এ দায় কে নেবে?’

অভিযুক্ত সহোদর বড় ভাই রফিকুল ইসলামের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার তিনি বলেন, ‘ঘটনা যা হবার তা তো হয়েই গেছে, আমার ভাই অপরাধ করেছে, এখন চেষ্টা করছি বিষয়টি সামাজিক ভাবে সালিসে মীমাংসার জন্য।’

তাহিরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমির উদ্দিনের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রোববার বলেন, ‘আমি সালিসের জন্য ভিকটিমের পরিবারকে কোন ধরণের চাঁপ দেইনি বরং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা করছি।’

Inline
Inline