সুনামগঞ্জে তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে রূপা রানী দাস (১৭) নামের এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, জনমনে প্রশ্ন উঠছে এটা হত্যা না আত্মহত্যা।

গতকাল রোববার (২১ এপ্রিল) সকালে শহরের হাসপাতাল রোডস্থ একটি ভাড়া বাসায় তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, রাসেন্দ্র দাস ওরফে রাসেল চৌধুরীর মেয়ে রূপা রানী দাস। পিতা-মাতা ধর্মান্ধরীত হওয়ায় রূপা রানী দাস তার কাকা রিপন দাসের হাসপাতাল রোডের ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করতেন।

এদিকে একই এলাকার মৃত চমক আলীর পুত্র পাবেল মিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। বিষয়টি রূপার পরিবারের লোকজন কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। সম্প্রতি রূপার বিয়ের ব্যাপারে পারিবারিকভাবে আলোচনাও চলছিল।

রোববার (২১ শে এপ্রিল) বর পক্ষের লোকজন এসে রূপার বিয়ের দিনক্ষন ধার্য করার কথা ছিল বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়। সকালে রূপাকে বাথরুমের সাওয়ারের সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে ছাতক থানার এস আই দিলোয়ার ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠান।

এসময় রূপার শরীরে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। রূপার পা ভুমির সাথে হাটু ভাঙ্গা অবস্থায় ছিল এবং শরীরের কাপড়চোপড়ও ছিল অনেকটাই পরিপাটি। বিষয়টিকে অনেকেই পরিকল্পিতি হত্যা বলে মনে করছেন। ছাতক পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী, মহিলা কাউন্সিলর মিলনরানী দাসসহ লোকজনের উপস্থিতিতে লাশ মর্গে পাঠায় পুুলিশ।

এদিকে রূপার পরিবারের লোকজন জানান, রূপার মৃত্যুর সংবাদে পাবেল গা ঢাকা দিয়েছে। রূপার মৃত্যুর জন্য প্রেমিক পাবেলই দায়ী। পাবেলের মানষিক নির্যাতনের জন্যই রূপা আত্মহত্যা করেছে বলে তারা মনে করেন।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ময়না তদন্ত ছাড়া কোন কিছুই বলা যাচ্ছে না।