সুনামগঞ্জে আজাদের খুনীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের যুগ্ম আহব্বায়ক ও কৃষক নেতা আজাদ মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। আজাদ হত্যার প্রতিবাদে বুধবার সকালে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বেতগঞ্জ বাজারে সর্বস্তরের ইউনিয়নের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমীন ও সদস্য আব্দুল লতিফের যৌথ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহীন চৌধুরী শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরী, এ কে কুদরত পাশা, সদর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব শহীদ নুর আহমেদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন, সমাজসেবক আব্দুস সোবাহান, চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিযুষ কান্তি দাস, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান, নিহতের ভাই আফরোজ রায়হান, ছোট বোন রোজিনা আক্তার, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, জামাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, জনসংযোগ সম্পাদক শহীদুল আলম রিপন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, ডা. সেলিম আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, মোশারফ হোসেন, ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন, মো. মঈনুদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা প্রহল্লাদ রঞ্জন দাস, হাবিবুল প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজাদ মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। নতুবা বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, আজাদ মিয়া ছিলেন একজন প্রতিবাদী মানুষ। গত বছর দেখার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে হওয়া অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে দুদকে তদন্তাধীন রয়েছে। এই মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্যে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিল। তাছাড়া এলাকার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এই চক্র সংঘবদ্ধভাবে মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে আজাদকে হত্যা করেছে। আজাদ হত্যার এজহারে যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করলেই হত্যার আসল রহস্য উদঘাটন হবে।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত কৃষক নেতা আজাদ মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় মারা যান। সোমবার ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় বেতগঞ্জ বাজার মাঠে জানাজার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনায় নিহত আজাদ মিয়ার ভাই আজিজ মিয়া বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ১২ জনকে আসামি করে সুনামগঞ্জ সদর থনায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উকিল আলীসহ অপর তিন আসামি হলেন- মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক, জালাপুর গ্রামের বাসিন্দা পাবেল মিয়া, রিপন মিয়া। সোমবার রাতেই ঘটনার প্রধান আসামি উকিল আলীকে গ্রেফতার করা হলেও বাকি তিন আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাহিরে।