সুনামগঞ্জের শাল্লায় ইভটিজিং’র দায়ে বখাটে কৌশিক থানা হাজতে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শাল্লা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করে বাড়ি ফেরার পথে কৌশিক দাশ (২২) নামের এক বখাটের হাতে নির্যাতনের শিকার হবিবপুর ইউপির আগুয়াই গ্রামের এক কলেজ ছাত্রী।

জানা যায়, সদর ইউপির রঘুনাথপুর গ্রামের উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা করুনাসিন্ধু দাসের ছেলে বখাটে কৌশিক প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণ করতো কলেজ ছাত্রীর সাথে। গতকাল মঙ্গলবার কলেজ থেকে ফেরার পথে বিকেল ৩টায় সদর ইউপির রঘুনাথপুর গ্রাম সংলগ্ন ও হবিবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সোমচাঁদ দাসের নতুন বাড়ির পাশদিয়ে যাওয়ার পথে বখাটে কৌশিক প্রথমে ছাত্রীটির গায়ের ওড়না টেনে নিয়ে যায়। এতে বাধা ও তার বাবাকে ফোনে ঘটনাটি জানাতে চাইলে মেয়েটিকে চড়-থাপ্পর মারে কৌশিক। বেশি বাড়াবাড়ি করলে নেংটা করে ছেড়ে দেবে বলে হুমকিও দেয় বিবাহিত বখাটে কৌশিক। পরে ওই ছাত্রী কলেজে এসে প্রিন্সিপালকে বিষয়টি জানান। কলেজ অধ্যক্ষ তাকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এসব ঘটনার কথা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান ওই ছাত্রী। পাশাপাশি অফিসার ইনচার্জকেও বিষয়টি অবগত করেন। ঘটনার পর শাল্লা থানা পুলিশের একটি দল মার্কুলী গ্রাম থেকে আসার সময় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে কৌশিককে। থানা হাজতে রাখা হয় ওই বখাটেকে।
অন্যদিকে বখাটে কৌশিককে ছাড়িয়ে নিতে চলছে জোর লবিং। বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে নানা তদবির। রাত পৌনে ১১টায় ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা করবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

শাল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ বলেন, এসব বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। তবেই সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে।

শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মেয়ের বাবা এখনো সিদ্বান্ত নিতে পারছেন না। তিনি লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানা যায়।