সিলিকন ভ্যালিতে মুরগি পালনে ‘বাদশাহী কাণ্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ৩০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সিলিকন ভ্যালি। সান্‌ফ্রান্সিস্কো এবং স্যান হোসে এই দুই শহরের মাঝামাঝি অবস্থিত সিলিকন ভ্যালি বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার জন্য। ইয়াহু, গুগল, ইবের মত বিশ্বের প্রভাবশালি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল কেন্দ্র এখানে।

উচ্চবিত্তদের বসবাসের এ নগরি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তবে তা প্রযুক্তিগত কোনো বিষয়ে নয়। আলোচনায় এসেছে এখানের উচ্চবিত্ত বাসিন্দাদের বাদশাহি কায়দায় মুরগি পালন নিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীন সমাজে পশুপাখির খামার হরহামেশায় দেখা যায়। এছাড়া ঘরের পাশে খালি যায়গায় অর্গানিক পদ্ধতিতে শাক-সবজি চাষ করার প্রবণতা রয়েছে তাদের। তবে সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালির মত নগরাঞ্চলের বাসিন্দারা মেতেছেন মুরগি পালনে।

বাড়িতে পালন করা মুরগির ডিম খেতে যদিও তারা এটা করছেন। তবে মুরগী পালনে বাদশাহী কর্মকাণ্ড অবাক হওয়ার মতই।
প্রচুর সম্পদশালী এসব ব্যক্তিরা তাদের মুরগির জন্য খাবারের তালিকা তৈরি করেন। মানুষের মত মুরগীর খাবারেও রয়েছে ডায়েটের ব্যবস্থা। মুরগির ডায়েটের জন্য তাদের খাওয়ানো হয় তরমুজ, স্যামন মাছ আর স্টেক। এছাড়া মুরগীর স্পেশাল খাবার রান্নার জন্য বড় বেতনে রাখা হয় আলাদা বাবুর্চী। এছাড়া মুরগিগুলো যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে তার জন্য তাদেরকে ডায়াপার পরিয়ে রাখা হয়।

মুরগিগুলোর খাঁচা তৈরি হয় অত্যন্ত দামি পাইন কাঠ দিয়ে। খাঁচার ভেতরটা অত্যন্ত সুন্দর করে সাজানো এবং ২৪ ঘন্টা তাতে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এসব খাঁচার দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয়। এছাড়া প্রতিটি খাচার দরজার স্মার্টলকের নিয়ন্ত্রণ থাকে মালিকের স্মার্টফোনে। যেখানেই থাকেন না কেন মোবাইলের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রন করতে পারেন মালিকরা।

এত রাজকীয় ভাবে কেন মুরগি পালন করেন? এমন প্রশ্নে এক ব্যক্তি জানান, এমন যত্ন করলে ওরা আরো পুষ্টিসম্পন্ন ডিম দেয়।
তবে শুধু যে ডিম আর মাংস খাওয়ার জন্য উচ্চশ্রেণীর এসব মানুষ মুরগী পালন করেন না তা জানা গেলো গুগলের এক কর্মকর্তার কাছে। জোহান ল্যান্ডে নামের ঐ ব্যক্তি জানান, ”কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই দিনের বেশির ভাগ সময়টা কেটে যায়। বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের সঙ্গে যখন সময় কাটাই, তখন চারপাশে মুরগি আর ভেড়াগুলো খেলে বেড়ায়। নেট দুনিয়া থেকে জীবজগতের দুনিয়ায় এসে মনটা হাল্কা হয়ে যায়। পরের দিন আবার কাজের জগতে ফিরে যাওয়ার শক্তি পাই।”

এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মকর্তা লরা মেনার্ড মুরগির প্রতি ভালোবাসার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ”আমার বাড়ির মুরগিদের আমি আমার রোলস রয়েস গাড়িটির মতোই যত্নে রাখি!”

সিলিকন ভ্যালিতে এসব মুরগির দামও প্রচুর। সাধারণ খামারে যেখানে একটি মুরগির দাম সর্বোচ্চ ১৫ ডলার। সেখানে বাড়িতে বিশেষভাবে পালিত এসব মুরগির দাম কমপক্ষে ৩০০ ডলার। আর ভালো জাতের হলে তার দাম বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট ও অনলাইন