সিদ্দিকুরের জন্য সবশেষ চেষ্টা করছি: নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাত সরকারি কলেজে পরীক্ষার রুটিনের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে এসে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেলে চোখ হারা সিদ্দিকুর রহমানের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে সবশেষ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সিদ্দিকুর তার চোখের আলো ফিরে পাক বা না পাক, তাকে অবশ্যই একটা চাকরি দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শিশু হাসপাতালে ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্বোধন করে মন্ত্রী এ কথা বলেন। গত ১ আগস্টও রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্দিকুরকে চাকরি দেয়ার কথা বলেছিলেন। সেদিন তিনি সরকারি ওষুধ কোম্পানি ‘এসেনশিয়াল ড্রাগস’ এ চাকরি দেয়ার কথা বলেছিলেন। শনিবারও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিদ্দিকুরের কী অবস্থা হবে জানি না। আমরা সবাই দোয়া করি, যেন সে তার দৃষ্টিটা ফিরে পায়। যেন সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। আমি নিজে বলেছি যে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে পারব কি না, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন, চিকিৎসকরা জানেন। তার যেন কোনো অসুবিধা না, আমি আগেও বলেছি, আজকেও বলেছি, সে তার দৃষ্টি ফিরে পাক বা না পাক, তাকে চাকরি অবশ্যই একটা দেব, আমার অধিদপ্তরেই দেব, তার পরিবারের যেন চালাতে কোনো অসুবিধা না হয়। গত ২০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয়ার সময় চোখে আঘাত পান সিদ্দিকুর। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের সেলের আঘাতে সিদ্দিকুরের লুটিয়ে পড়ার ছবি প্রকাশ হয়েছে। আঘাত লাগার দুই দিন পর চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে সিদ্দিকুরের রোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিদ্দিকুরকে চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই পাঠায় সরকার। সেখানে শংকর নেত্রালয়ে শুক্রবার তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে তা ফলপ্রসু হয়েছে কি না, এই তরুণ আবার চোখে দেখতে পারবেন কি না, সেই বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিদ্দিকুরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তাকে আমরা চেন্নাই পাঠিয়েছিলাম। গতকাল রাতে খবর নিয়েছি, তার অপারেশন হয়ে গেছে। সকালে তার চোখের ব্যান্ডেজটা খুলবে। খোলার পর বুঝা যাবে তার অবস্থাটা কী। সর্বশেষ চেষ্টা করছি আমরা’ জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘সিদ্দিকুর চেয়েছিল তার চোখের একটা অপারেশন করতে। চেন্নাইয়ের ডাক্তাররা বলেছিল কোনো সম্ভাবনা নাই। তারপরও সে বলেছিল একটা অপারেশন চাই। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, তার ইচ্ছা অনুযায়ী অপারেশনটা করতে। এর আগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিকাল চারটার মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে যেতে অভিভাবকদেরকে অনুরোধ করেন। এ সময় প্রতি জেলায় একটি করে শিশু হাসপাতাল করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ঢাকা শিশু হাসপাতালে স্থান সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি।