সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে ট্রাম্প-কিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু হয়েছে। সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নয়টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায়) সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের হোটেল দ্য ক্যাপেলোতে এই দুই নেতার বহু আকাঙ্ক্ষিত বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠক শুরুর আগে সাক্ষাৎ হওয়ার সময় দুই নেতা করমর্দন করেন। করমর্দন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কিম জং উনের ডান কাঁধ স্পর্শ করতে দেখা যায়। এ সময় দুই নেতাকেই হাসিমুখে দেখা যায়। এরপর দুই নেতার মধ্যে ঐতিহাসিক এই বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে কোরিয়ান উপদ্বীপে স্থায়ী এবং টেকসই শান্তি ব্যবস্থা ও পারস্পরিক উদ্বেগের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এবং সম্মেলনে দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থার ইতি টেনে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তিও সই হতে পারে।
বৈঠক শেষে সিঙ্গাপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে রাতে সিঙ্গাপুর ছাড়বেন তিনি। বিরল এ বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় আড়াই হাজার সাংবাদিক ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন।

এর আগে বৈঠকে অংশ নিতে গত রবিবার সিঙ্গাপুরে পৌঁছান ট্রাম্প; তার আগেই সিঙ্গাপুরে উড়ে যান কোরীয় নেতা কিম। দুই নেতাই নিজ নিজ দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিশাল বহর নিয়ে সিঙ্গাপুরে হাজির হন।

বিশ্বের আলোচিত দুই নেতার গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক উপলক্ষে রবিবার থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সিঙ্গাপুরকে। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় এলাকাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাম্প এবং কিমের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও তাদের বৈঠক ও তত্পার্শ্ববর্তী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে সুচারু গোর্খা বাহিনীকে। আকাশপথেও টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়া বৈঠকের আশপাশের এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসাধারণের যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থারও রয়েছে কড়া নজরদারি।

Inline
Inline