সাড়ে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দে সুনামগঞ্জে বোরো ফসল রক্ষায় বালির বাঁধ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আগামবন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে বোরো ফসল রক্ষার বাঁধ নির্মাণে মাটির পরিবর্তে বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জেলার তাহিরপুর উপজেলার শনি হাওর উপ-প্রকল্পের হোসেনপুর হতে আনোয়ারপুর হয়ে ছিফতনগর পর্যন্ত বাধেঁর উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভাঙ্গা বন্ধকরন অংশের আনোয়ারপুর বাজারে পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে যাওয়া বোরো ফসল রক্ষার বেরী বাঁধ মাটির পরিবর্তে বালি ফেলে বাঁধ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি।’ এ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি- সদস্য সচিব স্থানীয় যুবলীগ নেতা হওয়ায় যেন তেন ভাবে বাঁেধর কাজ করেই বরাদ্দকৃত অর্থ লুপাটের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন।
বোরো ফসল রক্ষার বেরীবাঁধ নির্মাণে শুরুতেই এমন পুকুর চুরির মত অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার সরজমিনে বাঁধ নির্মাণ এলাকায় গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত গেলে কৃষকরা এ বাঁধ স্বাভাবিক পানির প্রবাহেই ভেঙ্গে হাওরের ফসল ডুবির আশংকা প্রকাশ করেছেন।
কৃষকরা জানান, উপজেলার আনোয়ারপুর বাজারের দক্ষিণ দিকে বিগত মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় সৃষ্ট ভাঙ্গা অংশে মাটির পরিবর্তে বালি দিয়ে বাঁধ তৈরী করা হচ্ছে। এমনকি বাঁধের নিকট থেকেই বালি তুলে দায়সারা ভাবে বাঁধ নির্মাণ নির্দেশনা ও নীতিমালা পরিপন্থী ভাবে বাঁধ নির্মান কাজ চলছে।
উপজেলার আনোয়ারপুরের কৃষক আলীম উদ্দিন জানান, নীতিমালা ও নির্দেশানা অনুয়ায়ী হাওরের বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে বাঁেধ কমপক্ষে ৭০ ভাগ মাটি থাকতে হবে সেই সাথে নির্মাণাধীন বাঁধ থেকে অন্তত ৫০ ফুট দুর থেকে মাটি সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু আনোয়ারপুর বাজারের বাঁধের কাজে বাঁধ নির্মাণের কোন ধরনের নির্দেশনা না মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গাঁয়ের জোরে দায়সারা ভাবে বাঁধের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক সামায়ুন কবির ও সদস্য সচিব বালিজুরী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিন বলেন,মাটি না পাওয়ায় বালি দিয়ে বাঁধ তৈরী করেছিলাম।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সামায়ুন কবির ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিনকে শোকজ করেছেন। নীতিমালা ও নির্দেশনা পরিপন্থী ভাবে বালি দিয়ে বাঁধ তৈরীর কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে, সরজমিন তদন্তে কৃষকদের অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।