সাধুহাটীতে স্যালো ইঞ্জিনচালিত আলমসাধুর সাথে যাত্রীবাহী বাসের সাথে সংঘর্ষে: নিহত ৩ আহত ৭

জাহিদুর রহমান তারেক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী নামক স্থানে মঙ্গলবার সকালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় রায়হান উদ্দীন(৭০), শাহিনুর রহমান(৩২) ও আব্দুল লতিফ(৬০) নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন সাত জন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাধুহাটী মোড়ে একটি স্যালো ইঞ্জিন চালিত আলমসাধুর সাথে ইএন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান ঝিনাইদহের পান্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম ইমান আব্দুল লতিফ, হরিণাকুন্ডু উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে আলমসাধুর ড্রাইভার শাহিন কেষ্টপুর গ্রামের তোলো মন্ডলের ছেলে। ঝিনাইদহের ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই হাসানুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হরিণাকুন্ডু থেকে একটি আলমসাধু সাধুহাটী মোড়ে পৌছালে একটি দ্রুতগামী বাস আড়াআড়ি ভাবে আলমসাধুটিকে সজোড়ে আঘাত করে। এতে বাসের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বৃদ্ধ রায়হান। তার মাথা ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে ঝিনাইদহ দমকল বাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে আব্দুল লতিফ ও আলমসাধুর ড্রাইভার শাহিন নামে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মিথিলা হক জানান।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, ডাকবাংলা ডিগ্রি কলেজের পিয়ন সাধুহাটী গ্রামের আব্দুস সালাম, কেষ্টপুর গ্রামের পানচাষি কামরুল ইসলাম, একই গ্রামের আব্দুল মোমিন, আব্দুল খালেক, মিন্টু মিয়া ও সালাম হোসেন। হতাহতরা সবাই পান চাষি বলে স্থানীয় সাধুহাটীর চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন জানান। এদিকে আব্দুল মোমিন নামে এক ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার খবর পেয়ে তার ভাই আমিরুল ইসলাম গুরুতর ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাকে অচেতন অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পর ঝিনাইদহের সাধুহাটী মোড়ে স্পিড ব্রেকারের দাবীতে জনতা অবরোধের চেষ্টা করে। কিন্তু ঝিনাইদহ সদর থানার সফল ওসি ইমদাদুল হক শেখের আশ্বাসে জনতা অবরোধ কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। ওসি এমদাদুল হক শেখ আরো জানান, মঙ্গলবার সকালে হরিণাকুন্ডুর কেষ্টপুর গ্রাম থেকে কয়েকজন পান ব্যবসায়ী নসিমন যোগে পান বিক্রয় করতে চুয়াডাঙ্গার বদরগঞ্জ দশমাইল বাজারে যাচ্ছিল। পথে সাধুহাটি নামক স্থানে পৌছালে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঝিনাইদহগামী ইএন পরিবহনের একটি বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহাজ উদ্দিন নামে এক পান ব্যবসায়ী মারা যায়। আহত হয় আরও ৯ জন। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিদুল ইসলাম ও আব্দুল লতিফ মারা যায়। আহতদের মধ্যে আব্দুল মমিন ও আব্দুল খালেকের আশংকাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলায়। ঘাতক বাসটি আটক করলেও চালক পলাতক রয়েছে।