সাত খুন: ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দুই মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার শুনানি চলছে।

শুনানির প্রথম দিন সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক থেকে পড়ে শুনাচ্ছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল মান্নান মোহন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান।

মঙ্গলবার মামলাটি আবারও শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছে আদালত।

আব্দুল মান্নান মোহন বলেন, পেপারবুক থেকে মামলার এফআইআর, ‘পোস্টমোর্টম রিপোর্ট এবং জব্দ তালিকা থেকে পড়ে শুনান হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার আবারও শুনানি হবে। মামলাটি বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী।

গত ২২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সাধারণ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের পূর্বে হাইকোর্টের অনুমতির প্রয়োজন হয়। যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব ১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কোম্পনি কমান্ডার আরিফ হোসেন ও এম এম রানাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির আদেশ দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। বাকি নয় আসামির সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ২৫ জন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে র‌্যাবে আসেন। অপরাধ সংঘটনের সময় তারা সবাই র‌্যাব-১১-তে কর্মরত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন সেনাবাহিনী থেকে, দুই জন নৌবাহিনী থেকে, তিন জন বিজিবি, সাতজন পুলিশ ও দুই জন আনসার থেকে র‍্যাবে যোগ দেন। সাত খুনের মামলার পর তাদের নিজ নিজ বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের কারও ফাঁসির আদেশ হলে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স শুনানি করে তার অনুমোদন নিতে হয়। পাশাপাশি আপিল করার সুযোগ পায় আসামিপক্ষও। নারায়ণগঞ্জ আদালতের রায়ের পর প্রধান বিচারপতি মামলাটি দ্রুত ডেথ রেফারেন্স শুনানির ব্যবস্থা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় র‌্যাবের সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে কাউন্সিলর নজরুলের গাড়ি থামায়। র‌্যাব গাড়ি থেকে নজরুল, তার তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যায়। এ সময়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিনি অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাকে ও তার গাড়িচালককেও র‌্যাব তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের সবাইকে হত্যা করে ওই রাতেই পেট কেটে এবং ইটের বস্তা বেঁধে সবার লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেয়।

৩০ এপ্রিল ছয়জন ও পরদিন একজনের লাশ ভেসে ওঠে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে এ ঘটনায় র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ পায়। পরে তদন্তে জানা যায়, টাকার বিনিময়ে হত্যা করা হয়েছে এই সাত জনকে।

এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটির বাদী নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম এবং অপরটির বাদী আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাবের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। তার আগে তিনজনকে নিজ নিজ বাহিনীতে ফেরত নেওয়া হয় এবং তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল র‌্যাবের ২৫ জন কর্মকর্তা, সদস্যসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

Inline
Inline