সাইফুর রহমানকে ছুঁতে যাচ্ছেন মুহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট পেশ করে রেকর্ড গড়েছিলেন সিলেটের সন্তান প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। এবার তার সেই রেকর্ড ছুঁতে যাচ্ছেন সিলেটেরই আরেক সন্তান বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ১২ বারের মতো বাজেট পেশ করে সাইফুর রহমানের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন মুহিত। দুপুরে বাংলাদেশের ৪৭তম বাজেট নিয়ে আসছেন মুহিত, যার আকার হবে প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ সংখ্যক বাজেটের রেকর্ড সাইফুরের পাশে ভাগ বসাতে গেলেও টানা বাজেট দেওয়ার রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন মুহিত। গত ১০ বছর ধরে টাকা বাজেট দিয়ে আসছেন মুহিত।

মুহিতের হাতে গত নয় বছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার বেড়েছে চারগুণ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা, নতুন বাজেটে তা ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার মত হতে যাচ্ছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮২ সালে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন মুহিত। পরের বছরও তিনিই ঘোষণা করেন সরকারের বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা নয় বছর বাজেট ঘোষণা করেন মুহিত।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সাইফুর রহমান। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা পাঁচটি এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আবারও টানা পাঁচটি বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। চলতি বছর জানুয়ারিতে ৮৫ বছরে পা রাখেন মুহিত।

সিলেট জেলা মুসলিম লীগের নেতা আবু আহমদ আব্দুল হাফিজের দ্বিতীয় ছেলে মুহিত ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করার পর অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ডে উচ্চ শিক্ষা নেন। ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার পর তখনকার পাকিস্তান এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন মুহিত।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণে কারাভোগ করা মুহিত ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় ছিলেন পাকিস্তানের ওয়াশিংটন দূতাবাসে কূটনৈতিক দায়িত্বে। জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালে পরিকল্পনা সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে সচিবের হন মুহিত। ১৯৮১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে ‘অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে কাজ শুরু করেন ফোর্ড ফাউন্ডেশন ও আইএফএডি-তে।

দীর্ঘদিন বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পর দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন মুহিত।

মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ইতিহাস, জনপ্রশাসন রাজনীতি এবং স্মৃতিকথা নিয়ে ২৩টি বই ইতোমধ্যে লিখেছেন মুহিত।

Inline
Inline