সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের: মোল্লা জালাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেছেন, ‘সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের কাজ করেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তাদের সংগ্রাম। এজন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। না হলে রাষ্ট্রে অস্থিরতা বিরাজ করবে, সরকার বিব্রত অবস্থায় পড়বে, যা কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়।’

বুধবার রাতে এসএ টেলিভিশনের ‘লেট এডিশন’ নামের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে টকশোটি সঞ্চালনা করেন ইলিয়াস হোসেন। প্যানেল আলোচক ছিলেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) আরেক অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

‘পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা গণমাধ্যম কর্মীকে আঘাত করলো’ এমন প্রশ্নের জবাবে মোল্লা জালাল বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। আর এই নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কিছু বিভাগ আছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্যতম। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা যেমন তাদের দায়িত্ব, ঠিক তেমনি অন্যসব মানুষের মধ্যে সংবাদকর্মীদের ওপর সবচেয়ে বেশি নজর এবং তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্বও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এটা করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় গত রবিবার রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জানিয়ে মোল্লা জালাল বলেন, ‘আগামী ১১ আগস্ট সারাদেশে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেছি আমরা। গতকালকেও (বুধবার) আমরা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ আমরা মনে করি আমাদের সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবক তথ্যমন্ত্রী। উনি শুনেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন।’

গণমাধ্যমের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে উপস্থাপক বলেন, বিভিন্ন ঝুঁকিতে আছে গণমাধ্যম। নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে চলতে হচ্ছে গণমাধ্যমকে। বর্তমানের এ অবস্থাটা আপনি সাংবাদিক নেতা হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন।

সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোল্লা জালাল বলেন, ‘গণমাধ্যম ঝুঁকির মধ্যে আর গণমাধ্যম কর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে দুটো জিনিসের মধ্যে সুনিদিষ্ট পার্থক্য আছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গণমাধ্যম আক্রান্ত হয়নি, আক্রান্ত হয়েছে গণমাধ্যম কর্মী।’

এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘ছাত্ররা যারা আন্দোলন করছে হতে পারে তাদের মনের মতো নিউজ হচ্ছে না। এমন আকাঙ্ক্ষা তাদের মধ্যে থাকতেই পারে। আবার এর সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশে দেশে একটি অস্থিরতা সৃষ্টি করা, সরকারকে বড়ধরনের বিব্রত অবস্থায় ফেলে দেওয়ার একধরনের মোটিভও এর মধ্যে কাজ করছে বলে আমরা মনে করি। এজন্যই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন প্রথম দিকে সুন্দর হলেও শেষের দিকটায় সুন্দর হয়নি।’
‘গণমাধ্যম ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছে’

সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘গণমাধ্যম ঝুঁকির মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। আজও সাগর-রুনির হত্যার বিচার হয়নি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সাফল্য আছে, কিন্তু এ জায়গায় কেন যেন সাফল্য দেখাতে পারছে না। এ প্রশ্ন বিবেকবান মানুষের থেকেই যাবে।’

রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘ফটোসাংবাদিকরা বোঝে তাদের কোথায় যাওয়া উচিত। যখন দেখে একদল পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে তখন কিন্তু সে আরও সাহস করে সামনে এগিয়ে যায়। কারণ পুলিশের দায়িত্ব সাংবাদিকের পেশাগত কাজে সাহায্য করা। তার নিরাপত্তা দেয়া। এখন পুলিশের সামনে সাংবাদিকদের এমন রক্তাক্ত করবে আর আপনি চেয়ে চেয়ে দেখেন এটা দুর্ভাগ্যজনক।’

‘আজ তথ্যমন্ত্রীকে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিতে হবে? এটাতো প্রাথমিক দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তিনি জানতে চাইবেন এতগুলো সাংবাদিক আহত হয়েছে, তুমি পুলিশ, সেখানে কী দায়িত্ব পালন করেছো। কেন তোমার সামনে সাংবাদিকরা আহত হলো।’

বিএফইউজের একাংশের সভাপতি বলেন, ‘বিভিন্ন ফুটেজের মাধ্যমে এই হামলাকারীরা চিহ্নিত। পত্রিকায় তাদের ছবি ছাপানো হয়েছে। কাজেই এদেরকে গ্রেপ্তার ছাড়া এদেশের গণমাধ্যমপ্রিয় মানুষ ক্ষান্ত হবে না। এটা করতেই হবে। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে এবং মিডিয়ার স্বার্থে।’

‘সাংবাদিকরাও হামলাকারীদের শনাক্ত করে দিতে পারেন’

সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘যারা সাংবাদিকের ওপর হামলা করেছে তাদেরকে ধরার জন্য ছবি আছে, সাক্ষী আছে। অনেক কিছু আছে। পুলিশ নিজেও দেখেছে। রাষ্ট্রের সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব হলো হামলাকারীদের ধরা।’

‘কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে। সাংবাদিকতা ওই জায়গাতেও ভূমিকা রাখে, রাষ্ট্র কোথায় কোথায় ব্যর্থ হচ্ছে। এখন মিডিয়ার ওপর এই দায়িত্ব পড়ে অভিযুক্ত দুইজনকে পরিচিত করে দেয়া। পুলিশ শনাক্ত করছে না, আমাদের সুযোগ আছে রিপোর্টের মাধ্যমে পরিচিত করে দেওয়ার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার ব্যর্থতা তুলে ধরা সাংবাদিকদের কাজ।’

প্রবীণ এই সাংবাদিকের মতে হামলাকারীদের পরিচয় উন্মোচন করার প্রধান দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তবে রাষ্ট্র কোনো কারণে না পারলে তা উন্মোচন করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।