সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই ডিজিটাল আইন: সাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের পায়ের তলায় মাটি আর তাদের পক্ষে জনগণের সমর্থন নেই বলেই তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংসদে পাস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

রবিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সংবাদ মাধ্যম ও জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন , ‘সরকার মনে করে তাদের পায়ের তলায় কোনো মাটি নেই, জনগণের সমর্থন নেই। যেহেতু জনগণের সমর্থন নেই তাই তারা জোর করে জনগণের ওপর শাসনতন্ত্র কায়েম করতে চায়। সেটার জন্য যত ধরনের আয়োজন দরকার সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারা আইনগুলো পরিবর্তন করছে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটা বড় ধরনের আঘাত হিসেবে রাষ্ট্র এবং জনগণের ওপরে আসছে। বর্তমান সরকার একটা গোষ্ঠীগত শাসন কায়েম রাখার জন্য রাষ্ট্রের পত্তনের অঙ্গীকারের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে জনগণের অধিকারগুলোকে সংকুচিত করছে।’

সাকি বলেন, ‘দুর্নীতির একটা বড় উৎস আমলাতন্ত্র, সেই আমলাতন্ত্রকে নানা ধরনের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আমলাতন্ত্র যেন এ দুর্নীতির অভিযোগে না পড়ে। তাদেরকে এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে অফিশিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের নামে। আইনগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হচ্ছে যাতে করে আইনিভাবেই সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি স্বৈরতন্ত্রের একটি বড় খুঁটি হয়ে উঠবে উল্লেখ করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা টিপে ধরা হয়নি, তবে আইন দিয়ে সার্বক্ষণিক যেন গলা টিপে রাখা যায় সে ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র ক্রমেই ফ্যাসিবাদী চরিত্রে চলে যাচ্ছে। সরকার শাসনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করছে। এই রাষ্ট্রটা একটা স্বৈরাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। সরকার স্বৈরতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত করছে। আর এই স্বৈরতন্ত্রের একটি বড় খুঁটি হয়ে উঠবে এই আইনটি।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন কথাটাকে নতুনভাবে ভাবা দরকার। কারণ, আইনের শাসন মানেই কিন্তু একটা ভালো শাসন নাও হতে পারে। আইন নিজেই যদি প্রবল অগণতান্ত্রিক, গণবিরোধী এবং কালাকানুন হয়। তাহলে অগণতান্ত্রিক আইনের শাসন হবে। আমাদেরকে একটা নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য লড়াই করতে হবে।’

‘সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার মানে হচ্ছে জনগণের কণ্ঠরোধ করা। জনগণের কণ্ঠরোধ করার সমস্ত ব্যবস্থা এ আইনে আছে। আমরা এ আইনের বিরুদ্ধে লড়ব। আমরা সব গণতান্ত্রিক শক্তি, যারা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে কাজ করে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। এ আইনের বিরুদ্ধে লড়াই বর্তমান স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটা অংশ। বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অংশ।’

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, ফিরোজ আহমেদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Inline
Inline