সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পর্ত্তি দখল করে মার্কেট নির্মান করল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি

এসএম বাচ্চু,তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : তালা উপজেলার দেওয়ানিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তার ভাই সহ এলাকার দাপটশালী ব্যক্তিরা জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির সাথেও দখলবাজরা রাস্তার জমি দখল করায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির সস্মুখিন হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখাযায়, কলিয়া-তালা,ভায়া,কেসমতঘোনা সড়কে পাশে ৮১ শতক জমি উপর দেওয়ানিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত। এই বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে দেওয়ানিপাড়া বাজার সহ সরকারি রাস্তটি রয়েছে। সরকারি রাস্তা ও বিদ্যালয়ের ভবনের মধ্যস্থলের ফাঁকা জমি ইতোপূর্বে দখল করে মার্কেট নির্মান করলে বিগত ১/১১ সরকার সেই মার্কেট উচ্ছেদ করে জমি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা আলতাফ হোসেন সরদার ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আলতাফ হোসেন’র নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল শিক্ষকদের সহযোগীতায় বিদ্যালয়ের সভাপতি আলতাফ হোসেন সরদার সহ তার ভাই আক্কাচ সরদার, মুছা সরদার, নাজের সরদার, একই এলাকার রেয়াজুদ্দীন সরদার, ছিদ্দিক সরদার, আনছার সরদার ও শফিকুল সরদার সহ একাধিক ব্যক্তি সেখানে মার্কেট নির্মান করে। দখলকারীরা বিদ্যালয়ের জমি সহ জন গুরুত্বর্পূণ রাস্তার একাংশ দখল করে উঁচু পাকা দোকান ঘর নির্মান করায় বিদ্যালয়ের ভবনে পূর্ব পাশ দিয়ে আলো ও বাতাশ প্রবেশ বাঁধাগ্রস্থ হয়ে স্কুলের রুম গুলো স্যাঁতসেতে অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া সরকারি রাস্তার উপর দোকন নির্মান করায় যানবাহনে চলাচলকারিরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এঘটনায় ক্ষুব্ধ ও ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিদ্যালয়ের জমি বেদখল বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
এই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুর রব জানান, বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ’র সরকারি রাস্তা থেকে শুরু হয়ে ৮১ শতক জমি রয়েছে। বিদ্যালয়ের জমির উপর ওই মার্কেট নির্মান করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি আলতাফ সরদার জানান, রাস্তার কিছু ও বিদ্যালয়ের সামান্য জমির উপর দোকানগুলো নির্মান করা হয়েছে। তবে, সেখানে তার নিজস্ব কোনও দোকান নেই বলে তিনি দাবী করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো:মোস্তাফিজুর রহমান- জমির চৌহদ্দি ও দখলীয় পরিমান নির্নয় করে সার্বিক অবস্থার রিপোর্ট দেবার জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। তবে, দীর্ঘ ১৫দিন পার হলেও প্রধান শিক্ষক সেই রিপোর্ট দেননি বলে জানা তিনি।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয় ও রাস্তার জমিতে মার্কেট করে টিকে থাকার কোনও সুযোগ নেয়। এবিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।