সকলে সুন্দরবনকে নিয়ে ভাবেন, কিন্তু রক্ষায় কাজ করতে চান না: কেসিসি মেয়র

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সুন্দরবনের প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সকলে সুন্দরবনকে নিয়ে ভাবেন এবং ভালোবাসেন। কিন্তু সুন্দরবনকে রক্ষায় অনেকে কাজ করতে চান না। সুন্দরবনের সম্পদ আমাদের সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। সবার উপরে পরিবেশ সুরক্ষায় সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম।

সিটি মেয়র আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপদাপন্ন মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এ্যাওসেড এবং কোস্ট ট্রাস্ট এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সিটি মেয়র আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে সুন্দরবনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, এক শ্রেণির অসাধু লোক সুযোগ মত সুন্দরবনের বৃক্ষ নিধন এবং বিষ প্রয়োগে মাছ ধরে থাকে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে এ ধরণের অপতৎপরতা যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

মেয়র বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু প্রশ্নে বিশ্বব্যাপী বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রতিকূলতা মোকাবেলায় বাংলাদেশে বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তিনি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকার স্বার্থে মৎস্য শিকার, কাঠ আহরণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে জানানো হয়, গত ৩০ বছরে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশকে বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সমুদ্র থেকে দশমিক ৬৩ মিলিয়ন টন মাছ প্রতি বছর আহরিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত মৎস্যজীবীসহ দেশের ১৪ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবীকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালীন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩টি পরিবার এবং ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালীন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭২৩টি পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি করে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ এর সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, সুন্দরবন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক কবির হোসেন পাটোয়ারি, সমাজসেবা অধিদপ্তর-খুলনার উপপরিচালক খান মোতাহার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তর-খুলনার বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শাহজাহান আলী।

স্বাগত বক্তৃতা করেন, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক ডি এম নাজমুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ্যাওসেড-এর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফীন।

সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, গণমাধ্যম ও মৎস্য আহরণ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।(বিজ্ঞপ্তি)

Inline
Inline