সংলাপে আশায় কামাল, সংশয়ে ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ নিয়ে আশাবাদী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন। তবে ফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাফল্য নিয়ে সংশয়ে।

সংলাপের আগের দিন বুধবার বিকালে রাজধানীতে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা। ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে জেএসডি।

কামাল হোসেন মনে করেন, দেশে রাজনৈতিক সংকটের বিষয়টি নিয়ে উপলব্ধি এসেছে আওয়ামী লীগে। এ কারণেই তাদেরকে সংলাপে ডাকা হয়েছে।

আর ফখরুল বলেছেন, সংলাপের ফলাফল নিয়ে এরই মধ্যে জনগণের মধ্যেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৬ জন নেতা যাচ্ছেন গণভবনে। সঙ্গে যাবেন বিএনপির পাঁচ নেতা। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ক্ষমতাসীন দল ও তার জোটের ২১ নেতা কামালদের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত।

এই সংলাপের সূচনা হয়েছে ড. কামাল হোসেনের চিঠিতে। গত রবিবার চিঠিটি পাঠান তিনি। আর পরদিন আওয়ামী লীগ জানায়, তারা বসতে রাজি।

‘উপলব্ধি এসেছে আ.লীগে’

কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশে এখন একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাটাই বড় ব্যাপার। তারা (সরকার) জানেন, যে নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করে না, সেই নির্বাচন থেকে কিছু পাওয়া যায় না। এই উপলব্ধি নিশ্চয়ই তাদের হয়েছে। তা না হলে তো আমাদের আলোচনায় ডাকার কোনো দরকার তাদের ছিল না।’

‘আলোচনার মাধ্যমেই বোঝা যাবে সরকার কতটা করার জন্য প্রস্তুত, কোন কোন ইস্যুতে তাদের দ্বিধা আছে।’

সংলাপের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা করছেন কামাল। বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের, এটা নিয়ে দ্বিমত হতে পারে না। এটাকে কাজে লাগাতে হবে সকলের স্বার্থে। ঐক্যের ব্যপারে কোন দ্বিমত নেই।’

‘৭১ সালে আমাদের বিজয় হয়েছিল জনগণের ঐক্যের কারণে। এর পরে সংবিধান হয়েছে, তাতে বলা আছে এ দেশের মালিক জনগণ। তাতে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করে দলিল করে দিয়েছেন। জনগণ ক্ষমতার মালিক। সেই মালিকের দায়িত্ব দেশের স্বাধীনতা রক্ষার।’

আশাবাদী নন ফখরুল

এর আগে দেয়া বক্তব্যে সংলাপ নিয়ে সংশয়ের কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বলেন, ‘এই সংলাপ তারা কতটা আন্তরিকতার সাথে আহ্বান করেছেন, এই সংলাপের পরিণতি তারা কোন দিতে নিয়ে যাবেন, সে সম্পর্কে জনগণের মধ্যেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।’

‘আমরা আশা করব প্রধানমন্ত্রী সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুণঃপ্রতিষ্ঠা করবার জন্যে, মানুষের অধিকার ফিরে আনবার জন্যে, যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, আজকে জাতীয় সংলাপের মধ্য দিয়ে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করবেন।’

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালী সরকার গঠন করা ছাড়া রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সেই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মু্ক্তিরও নিশ্চয়তা চান বিএনপি নেতা। বলেন, ‘তা যদি না হয়, তাহলে রাজনৈতিকক যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার দায় দায়িত্ব সরকারের উপরেই বর্তাবে।’

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সংলাপ আহবান করার পরও বিএনপিকে ধ্বংস করার কাজ করে যাচ্ছে। বেগম জিয়ার দুটি রায় হয়েছে, আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এই সংলাপ কতটুকু আন্তরিক এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। আশা করি প্রধানমন্ত্রী সংলাপ সফল করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের পথ বের করবেন।’

আলোচনায় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘জাতীয় সংলাপ সফল করতে হলে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। কোন রকম পূর্বশর্ত দিয়ে সংলাপ হবে না।’

ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সাত দফা দাবি নিয়েই আলোচনা হবে। আগেই সংবিধানের দোহাই দিলে সংলাপ সফল হবে না। জনগণের স্বার্থে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ ব ম মোস্তফা আমিনসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতারা এ সময় বক্তব্য রাখেন।