ষড়যন্ত্রে পোশাকখাতের অগ্রগতি ঠেকানো যাবে না: শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঠেকাতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, অতীতেও এ ষড়যন্ত্র ছিল। তবে এতে তৈরি পোশাক শিল্পখাতের অগ্রগতি দাবিয়ে রাখা যাবে না।’বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বস্ত্র ও পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘তৈরি পোশাক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্য সংযোজন ও জনগণের জীবন মানোন্নয়নে এ খাতের ব্যাপক অবদান রয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ দেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক এবং দৃঢ় রেকর্ড এর অধিকারী।’শিল্পমন্ত্রী ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের তথ্য তুলে ধরে বলেন, এসময় ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি এসেছে পোশাক শিল্পখাত থেকে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এখাতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ চিত্রই প্রমাণ করে বহির্বিশ্বে স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রচার সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে।
এসময় নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পোশাক শিল্প অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের গার্মেন্টস শিল্প কারখানাগুলোতে ৪৪ লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছে। এর ৮০ শতাংশই নারী।’১৮তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৭, ১২তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ান অ্যান্ড ফেব্রিক শো-২০১৭ এবং ২৮তম ডাই-ক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো- ২০১৭ শীর্ষক তিনটি প্রদর্শনীতে বিশ্বের ২৫টি আংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ ,ইউএসএ, ইউকে, জাপান, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স, চীন ইত্যাদি দেশের প্রায় ১১৫০টি প্রতিষ্ঠান ১৪০০টি স্টলে তাদের নিজস্ব পণ্য প্রদর্শন করবে।প্রদর্শনীতে ভোক্তা, উদ্যোক্তা, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সরাসরি সাক্ষাৎ এবং আলাপচারিতার সুযোগের মাধ্যমে একটি সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করেন সেমস্ গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন. ইসলাম ১২ আগস্ট শেষ হওয়া এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত। চলবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।