ষড়যন্ত্রের রায় জনতা মানবে না: গ্রেনেড হামলা নিয়ে ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক কোনো রায় জনগণ মেনে নেবে না বলে আগে ভাগেই সতর্কতা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠার্ষিকীতে শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফখরুল এ কথা বলেন।

ব্যাপক লোক সমাগমের এই জনসভায় বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ের ঘোষণা দেন। বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন দেশে আর হবে না।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ুন। বুকে হাত দিয়ে বলুন, বাংলাদেশকে মুক্ত করবই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবই। দেশকে স্বাধীন করবই।’

বিএনপির ভবিষ্যত নেতা হিসেবে স্বীকৃত তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় নির্বাসনে রাখা হয়েছে দাবি করে তাকে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন ফখরুল।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্ভাব্য রায়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের কোনো রায় মেনে নেবে না জনগণ। জনগণ এমন রায় হলে তা প্রতিহত করবে।’

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে ক্ষমতায় থাকাকালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় চালানো হয় গ্রেনেড হামলা। এই মামলায় আসামি তারেক রহমানও। এরই মধ্যে মামলায় সব আসামির যুক্তি উপস্থাপন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দুই দিন আইনি যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসতে রায়ের তারিখ।

এই মামলায় অর্থপাচার ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২২ কোটি টাকা জরিমানা হওয়া তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

ভয়ে ঘুম হয় না আ.লীগের

ফখরুল দাবি করেন, আওয়ামী লীগ এখন বিএনপি, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ভীতির কথা ভেবে ঘুমাতে পারছে না।

‘আওয়ামী লীগ নেতারা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে। ভয়ে মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠে। আসলো, আসলো বিএনপি আসলো; আসলো, আসলো তারেক রহমান আসলো; আসলো, আসলো, খালেদা জিয়া আসলো।’

‘এই ভয়ে তাদের ঘুম হয় না, ২৪টা ঘণ্টা শুধু বিএনপি ভীতি, বিএনপি ভীতি, খালেদা জিয়া ভীতি, তারেক রহমান ভীতি। এ থেকে বাঁচার জন্য কত রকমের কারসাজি, কত রকমের কারুকাজ।’

জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা এই ধরনের একটি কারসাজি বলেও উল্লেখ করেন ফখরুল। বলেন, ‘এখন নিয়ে এসেছে কি? ইভিএম। যদি ইভিএম তাদেরকে উদ্ধার করতে পারে। কারণ, তারা জানে মানুষ তাদেরকে পাত্তা দেবে না।’

‘এই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ থেকে দূরে চলে গেছে। আওয়ামী লীগ এখন একটা দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।’
‘আগে খুব গর্ব করে বলে তরুণ যুবকেরা নাকি তাদের সাথে আছে। এই তরুণ যুবকেরা, শিশু সন্তানেরা প্রতি মুহূর্তে চায় কখন এই দুঃশাসন এই পাথর বুকের ওপর থেকে দূরে চলে যাবে।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু কিশোরদের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, ‘যখন শিশুদেরকে রাস্তায় হেলমেট পরে নির্যাতন করছিল। এমনকি যারা তাদেরকে খাবার দিতে এসেছিল, তাদেরকে কারাগারে নিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে।’

‘শহিদুল আলম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রশিল্পী। তাকে গ্রেপ্তার করে মারতে মারতে রিমান্ডে নিয়ে গেছে। এখন পর্যযন্ত তাকে মুক্তি দেয়নি। সারা বিশ্ব বলছে তাকে মুক্ত করতে। কিন্তু তাকে মুক্ত করেনি।’

বুকে বল নিয়ে ঘুড়ে দাঁড়াতে হবে

দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সাহসী হওয়ার পরামর্শ দেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘আপনাদেরকে বুকে সাহস নিয়ে, বুকে বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমরা আমাদের মাতা, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আর কারাগারের অন্তরালে দেখতে চাই না।’

‘সরকারকে বলতে চাই অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় তার সব দায় দায়িত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে।’

বাংলাদেশের তরুণরা আবার জেগে উঠেছে এই সমাবেশ প্রমাণ করে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘এই যুবকরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত হরে আনবে।’

‘আমাদের যেসব নেতাকর্মী গুম, খুনের শিকার হয়েছেন তাদের রক্তের শপথ নিতে হবে আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনব।’

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

‘দেশ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে’ বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতেও সব দলের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল। বলেন, ‘আসুন, জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করি।’

‘আমাদের শেষ কথা। বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে হবে। সবার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চেয়ারম্যান জয়নুল আবদিন, বেগম সেলিমা রহমান,শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব,সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,খায়রুল কবির খোকন,হাবিব উন নবী খান সোহেল,মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের রাজিব আহসান প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তথ্য ও গভেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, কামরুল ইসলাম সজল, মো. মতিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।