শ্রীপুরে প্রতিবন্ধী ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা

আশিকুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে : বাবা মারা গেছে অনেক আগেই। গর্ভধারিনী মা-ও বেঁচে নেই। বড় ভাইয়ের দারিদ্রতার সংসারে সে যেন এক দায়গ্রস্ত কন্যা। পেট তো আর অভাব বুঝেনা! তাই দু’বেলায় খাবারের আশায় পাশেই আফির উদ্দিন মাস্টারের বাড়ীতে খাওয়ার বিনিময়ে কাজ করতে যায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এক প্রতিবন্ধী কন্যা(৩৫)। কিন্তু পেটের জ্বালাই কাল হলো তার জীবনের। কাজের ফাঁকে আফির উদ্দিনের কু-নজর পরে তার দেহের উপর। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে একাধীকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন আফির উদ্দিন মাস্টার।

এ বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আফির উদ্দিন মাস্টার উপজেলার ধনুয়া গ্রামের হাজী শরাফত আলীর পুত্র।

গ্রামের পাথার এলাকায় সরকারী একটি পুকুরপাড়ে জির্ণ কুঠিরে বাস করে ওই প্রতিবন্ধি কন্যা। এক বেলা দু বেলা না খেয়ে কোন মতে দিন কাটতো তার। তবু ভালো ছিল সে। কিন্তু আফিরের কু-দৃষ্টি এখন তার জীবনকে অন্ধকার আচ্ছন্ন করে তুলেছে বলে কাঁদতে কাঁদতে জানান ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা কন্যাটি। তাই তার পেটের সন্তানের পিতার স্বীকৃতি চায় সে।

থানায় দেওয়া অভিযোগ এবং ওই প্রতিবন্ধি কন্যার ভাবীর ভাষ্যমতে জানা যায়, একই এলাকার আফির উদ্দিনের বাড়ীতে থেকে প্রায় ১ বছর যাবৎ কাজ করতো আমার ননোদ (প্রতিবন্ধি)। কিছু দিন যাবৎ তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি ডাক্তারের কাছে নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা করলে ডাক্তার জানায় সে ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা। পরে আমার বোন বাড়ীতে এসে আফির মাস্টার তার (লালসার শিকার) সাথে বিভিন্ন সময় শারীরিক সর্ম্পক করে বলে জানায়। এ কথা কাউকে বললে তাকে খুন করবে বলেও হুমকী দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আফির মাস্টারের নিয়োজিত লোকজন পেটের বাচ্চা নস্ট করার উদ্দেশ্য সি.এন.জিতে উঠিয়ে নিয়ে যায় তাকে প্রতিবন্ধি কন্যাকে। পরের দিন দুপুরে ফিরে আসে সে।

সূত্র আরো জানায়, ওই পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে আমাদের সাথে আপোষ করতে বলেছে। আমরা গরীব মানুষ, টাকা পয়সা নাই সরকারী জমিতে থাকি। তাই বিচার পাচ্ছিনা। আমাদেরকে এ জমি থেকে উঠিয়ে দিবে এবং আমাদেরকে মাদকের ব্যবসায়ী বানিয়ে পুলিশে দিবে- এমন হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা ভয়ে কোন কিছু বলতে পারিনা।

সরেজমিনে শুক্রবার দুপুর ১২টায় ভিক্টিমের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত পরিবারের একাধিক সদস্য বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিচ্ছে। তথ্য চাইতে গেলে এক পর্যাক্রমে সংবাদ কর্মীদের সাথেও উত্তেজিত হয় তারা।

এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আফির উদ্দিন মাস্টার গাঁ ঢাকা দিয়েছে বলেও জানা যায়। উপরোক্ত বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধীকবার ফোন দিলেও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

তবে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম জানান, আফির উদ্দিন মাস্টার ডেপুটেশনে পি.টি.আই ট্রেনিং-এ রয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, আমি গতকাল এ ঘটনা শুনেছি। ভিকটিম ও অভিযুক্তকে এক সাথে করে পরিষদে আসার কথা বলছিলাম। কিন্তু তারা কেহ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।

শ্রীপুর থানার কর্তব্যরত পুলিশের সহকারী উপ-পরির্দশক (এএসআই) রাকিব জানান, এ বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী আইনী প্রক্রিয়া গ্রহন করা হবে।