শ্রীদেবীকে নিয়ে জয়ার আফসোস

বিনোদন ডেস্ক : জয়া প্রদা একজন ভারতীয় অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ। একটা সময় তিনি দক্ষিণের তেলেগু, তামিল ও বলিউডের হিন্দি ছবিতে দাপিয়ে কাজ করেছেন। সবখানেই তিনি সমান জনপ্রিয়। কাজ করেছেন বাংলা ছবিতেও। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমি সেই মেয়ে’ ছবিতে তাকে বাংলাদেশি নায়ক আলমগীরের স্ত্রীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল।

আশির দশকে অভিনয় জগতে জয়া প্রদার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভারতের প্রথম সুপারস্টার নায়িকা প্রয়াত শ্রীদেবী। সে সময় নাকি এ দুজনের কেউ কাউকে সহ্য করতে পারতেন না। ‘তোহফা’ ও ‘মাকসাদ’ নামের দুটি ছবিতে তারা একসঙ্গে অভিনয় করলেও কেউই কারো সঙ্গে একটি শব্দও বিনিময় করেননি।

কথিত আছে, সে সময়কার সুপারস্টার দুই নায়ক রাজেশ খান্না এবং জিতেন্দ্র মিলে শ্রীদেবী ও জয়াকে কথা বলানোর জন্য একসঙ্গে মেকআপ রুমে আটকে পর্যন্ত রেখেছিলেন। কিন্তু এক ঘণ্টা পরে দরজা খুলে তারা দেখেন, দুই অভিনেত্রী রুমের দুই প্রান্তে অন্যদিকে মুখ করে বসে আছেন। একটি কথাও বলেননি।

কিন্তু সম্প্রতি দেয়া একটি সাক্ষাতকারে জয়ার মুখে শোনা গেল অন্য সুর। শ্রীদেবীর সঙ্গে তার ঠান্ডা লড়াইয়ের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে উল্টো প্রশ্ন রেখে জয়া বলেন, ‘সবই চর্চা ও গুজব। আমাদের মধ্যে সুস্থ একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ঠিকই, কিন্তু কেউ কখনও কি আমাদের ঝগড়া বা চুলোচুলি করতে দেখেছে?
জয়া আরও বলেন, ‘দুজন সুন্দরী অভিনেত্রী, যারা দুজনেই অসম্ভব ভাল ডান্সার, তাদের মধ্যে যেকোনো প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে! এ সময় আফসোস করে অভিনেত্রী বলেন, ‘ভাবতে খুবই খারাপ লাগে, শ্রীদেবী বড্ড তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। মেয়ে জাহ্নবীর অভিষেক ছবি দেখে যেতে পারল না।’

সত্তরের দশকে অভিনয়ে আসা জয়া ১৯৯৪ সালে হঠাৎই ঢুকে পড়েন ভারতের রাজনীতেতে। তাই বলে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাননি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিতই মুখ দেখিয়ে চলেছেন রূপালী পর্দায়। তবে বাংলা ছবিতে ফিরলেন একটু দেরিতে। ২০০৯ সালে কলকাতার বাংলা ‘সংঘাত’ ছবিতে শেষ দেখা গিয়েছিল তাকে।

নয় বছর পর আবারও বাংলায় ফিরেছেন অভিনেত্রী। অভিনয় করছেন ‘আত্মজা’ নামের কলকাতার একটি ছবিতে। যেখানে জয়া আছেন মায়ের চরিত্রে। চাকরিরত বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের কীভাবে একটা দূরত্ব তৈরি হয়, তাই-ই দেখানো হবে ছবিতে। এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করাটা বরাবরই স্পেশাল বলে জানালেন জয়া।

Inline
Inline