শ্বশুরের কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় মেয়েকে দিয়ে জামাইয়ের বিরূদ্ধে যৌতুক মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : বটিয়াঘাটা বাজারের তরকারী বিক্রেতা শ্বশুর জামাইয়ের কাছে ঋনী হয়ে পড়লে টাকা না দেয়ার অজুহাতে নিজ কন্যাকে দিয়ে জামাইয়ের বিরূদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রাম ডাক্তার জামাইয়ের বিরূদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন হেতালবুনিয়া গ্রামের মো: বাহার পাটোয়ারীর কন্যা নাজমা আক্তার এর সাথে জেলার সোনাডাঙ্গা থানাধীন কাদের খান রোডস্থ মো: শুকুর আলী গাজীর পুত্র মোহাম্মদ আলী গাজীর ৪ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের একটি ২ বছরের কন্যা সন্তান আছে। নাজমা আক্তার এর পিতা বাহার পাটোয়ারী অভাবের সংসারের প্রয়োজন মেটাতে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অজুহাতে জামাই মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে ঋণ নেয়। এক পর্যায়ে জামাই মোহাম্মদ আলী পাওনা টাকা ফেরৎ চাওয়া শুরু করলে শুরু হয় দ্বন্দ। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঋণের টাকার ব্যাপারে ঝগড়া লেগেই থাকত। স্বামী মোহাম্মদ আলী উপায়ন্তর না দেখে পাওনা টাকাসহ সোনা গহনা ও অন্যান্য আসবাবপত্র যা ইতিমধ্যে নাজমা আক্তার পিতার বাড়ীতে নিয়ে গেছে তা ফেরৎ চেয়ে ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ইং একটি উকিল নোটিশ পাঠায়। এতে টাকা ফেরৎ না দেয়ার জন্য বাহার পাটোয়ারী তার কন্যা নাজমা আক্তারকে দিয়ে জামাই মোহাম্মদ আলীর বিরূদ্ধে পরদিনই ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ইং একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন। উক্ত যৌতুক মামলার ৪ নং স্বাক্ষী মো: সাইফুল পাটোয়ারীর কাছে মামলার ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলায় উল্লেখিত ঘটনার দিন আমি মোবাইলে জামাই মোহাম্মদ আলীকে ডাকি শ্বশুরের কাছে তার পাওনা টাকা নিয়ে যাবার জন্য। আমি একথাও বলি যে, তোমার শ্বশুর তোমার কাছ থেকে নেয়া ধারের টাকা আমার কাছে দিয়ে রেখেছে তুমি এসে নিয়ে যাও(জামাই মোহাম্মদ আলী এবং ৪ নং স্বাক্ষী সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারীর মোবাইলের কথপোকথন বিবাদী মোহাম্মদ আলীর নিকট রেকর্ড করা আছে)। বিবাদী মোহাম্মদ আলী ১৬ই ডিসেম্বর স্ত্রীকে আনতে গেলে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন নাজমা আক্তারকে পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে। বিবাদী এখনও তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘর সংসার করিতে চাহেন। বিবাদী মোহাম্মদ আলী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি সুবিচার প্রার্থী।