শেখ হাসিনার জন্য কলকাতায় পথে পথে ভিড়

নিজস্ব সংবাদদাতা : জৈষ্ঠ্যের কাটাফাটা রোদে হাঁসফাঁস অবস্থা কলকাতাবাসীর। রাস্তায় তো নয়ই ঘরেই টেকা দায়। এমন প্রচণ্ড গরম আর রোদ উপেক্ষা করে সারি সারি রাস্তার দু ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে আছেন শহরবাসী থেকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। উদ্দেশ্য, শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্য।

শনিবার দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কনভয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢোকার আগে পর্যন্ত এভাবেই বাড়তে থাকল সেই ভিড়।

ওইদিন আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সম্মানিক ডি লিট দেয়া হল হাসিনাকে। জায়গার অভাবে এই অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদক ও প্রশংসাপত্র প্রাপকেরা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার ছিল না। তবে হাসিনাকে দেখতে রাস্তার দু’দিকে সকাল ৯টা থেকেই তাদের ভিড় জমে। ছিলেন এলাকার বাসিন্দারাও। এমন ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও টানা দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা।

প্রবেশের অনুমতি নেই জেনেও সাতসকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী সুজাতা ভান্ডারি। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এক বার দেখতে চাই। ওঁকে শুভেচ্ছা জানাতে সকাল-সকাল চলে এসেছি।’’ দর্শন বিভাগের ছাত্রী সান্ত্বনা ঘোষ বলেন, ‘‘এমন ঐতিহাসিক মুহূর্ত আর দেখতে পাব কি না জানি না। তাই সাক্ষী থাকতে চাই।’’

শহরবাসীর উৎসাহও ছিল দেখার মতো। কাল্লা থেকে এসেছিলেন অশীতিপর শুভেন্দু বিশ্বাস। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শহরের অতিথি। তাঁকে স্বাগত জানাতেই সকাল-সকাল হাজির হয়েছেন তিনি।

হাসিনার কনভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে বাঁক নিতেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করলেন রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা দর্শনার্থীরা। কেউ আবার মোবাইলে ছবি তুলে রাখলেন। কাচে ঢাকা গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পাল্টা হাত নেড়ে অপেক্ষমান শহরবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।

এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া ১৯ শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেয়া হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতেই তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী।