শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে মাঠে কৃষকের বোরো আবাদ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শুরু হয়েছে বোরো আবাদ। প্রচন্ড শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে মাঠে নেমেছে কৃষক। বীজতলা থেকে চারা তোলা, ক্ষেতে হালচাষ ও চারা রোপণে ব্যস্ত তারা।
পুরুষের সঙ্গে সঙ্গে নারীরাও ব্যস্ত। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে পলাশবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় বোরো চারা রোপণ শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চারা রোপণ করা হবে।
কৃষকরা বলছেন- আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো চাষ বিঘ্নিত হবে না।
সরেজমিনে পলাশবাড়ীর সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া, জগড়জানি, হিজলগাড়ীএবং নুরপুর ঘুরে দেখা যায়, সেখানকার কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন।
অনেকেই আবার বীজতলায় কাজ করছেন। তবে সরিষা তোলা শেষ হলে উপজেলার সর্বত্রই বোরো চারা রোপণে ধুম পড়ে যাবে। আবাদ করা ধানের মধ্যে রয়েছে- ব্রিধান ২৮, ২৯, ৪১, ৪৯, ৫৮, ৫৯, ৬৪, হাইব্রিড ও স্থানীয় আরো কয়েকটি জাত।
কৃষকরা বলেন, বাজারে এখন ধানের দাম বেশি। সামনে যদি ধানের দাম বেশি থাকে তাহলে তারা লাভবান হবেন।
তবে তাদের অভিযোগ- বোরো ধানের চারা রোপণের সময় ধানের দাম বেশি থাকে। কিন্তু বোরো ধান কাটার পর দাম কম থাকে। তখন তারা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হন।
বাজারে সব কিছুরই দাম বেশি শুধু ধানের দাম কম। তবে কৃষকরা ধান চাষে লাভবান কম হলেও কামলারা(দিনমজুর) লাভবান হচ্ছেন।
এ বিষয়ে কথা হয় নুরপুর গ্রামের কৃষক সাদা মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে বারো ধানের আবাদ করবো। এখন ১ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করছি। পর্যায়ক্রমে আরো ৫ বিঘা চারা রোপণ করা হবে।’ প্রতি বিঘা জমিতে বোরো চারা রোপণ থেকে ধান কর্তন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমরা কেউ কেউ বোরো আবাদ শুরু করেছি। মাঠে এখনো সরিষা রয়েছে। সরিষা তোলা শেষ হলে পুরো দমে আবারো আবাদ শুরু হবে। আশা করছি এবার বোরো ধানে ভালো ফলন পাবো। ’
গুবিনপুর গ্রামের কৃষাণি আমেনা বলেন, ‘আমরা এবার ১ বিঘা জমিতে বোরো লাগাচ্ছি। তবে বোরো ধানের ফলন পাওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কিত রয়েছি। কারণ গত বন্যার কারণে আমাদের এলাকার বেশিরভাগ আমন ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছিল। এবারও সামনে আমাদের বন্যার ভয় রয়েছে।’
আরেক কৃষক আব্দুর রহমান জানান, ‘বাজারে ধানের বীজ, সার এবং কামলার দাম বেশি, শুধু ধানের দাম কম থাকে। এতে কৃষকদের ভালো ভলন পেলেও লাভবান হতে পারছে না। বাজার বর্তমানে ধানের দাম প্রায় ১ হাজার টাকার উপরে রয়েছে। কিন্তু এখন তো আমরা ধান বিক্রি করতে পারছি না। যখন আমাদের ধান কাটা শেষ হয়ে যায়, ঠিক তখনই ধানের দাম কম থাকে। আর এতে আমাদের লোকসান হয়।
অন্যদিকে কামলারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। পুরুষের পাশপাশি মাঠে নারী কামলাদেরকে দেখা যায়।
মাঠে কাজ করার সময় কথা হয় নার্গিস বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার সাথে আরো দুইজন কাজ করে থাকেন। আমরা শুধু ধানের মৌসুমগুলোতে মাঠে কাজ করে থাকি। এতে আমরা বেশ লাভবান হই। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এ কাজ করছি। আমরা সেখানেই যাই ৩ জন এক সাথেই কাজ করি।’
তিনি আরো বলেন, সংসারের খরচ বহন করার জন্য স্বামীর পাশাপাশি এ কাজ করছি। প্রথমে অনেকেই নানান কথা বললেও এখন আর তা বলে না। ’
নাটোর থেকে আসা দিনমজুর জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১০ বছর ধরে পলাশবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে কামলা হিসেবে ধান রোপণ এবং কর্তন করে থাকি। এতে প্রতিদিন আমি প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মতো পেয়ে থাকি। এই অর্জিত টাকা দিয়েই ছেলেমেয়ের লেখা-পড়ার খরচসহ সংসারের যাবতীয় খরচ বহন করে।
পলাশবাড়ীর কৃষি সম্পসারণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার বলেন, এখন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। তবে সরিষা তোলার পর বোরো আবাদ পুরোদমে শুরু হবে বলে তিনি জানান।