শীতের রোগ থেকে বাঁচতে যা খাবেন…

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ শীতকালে সর্দি, জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ জাতীয় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তাই এই সময় শরীরের জন্য নেয়া উচিত বাড়তি যত্ন এবং ডায়েটে দরকার পরিবর্তন।

পুষ্টিবিদ ও ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান পুজা মাখিজা শীতকালীন রোগ থেকে রক্ষা পেতে কিছু খাবারের নাম উল্লেখ করেছেন। যা আপনাকে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও উপশমে সাহায্য করবে।

প্রোটিন: প্রোটিন শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির অন্যতম উৎস। অ্যান্টিবডি জীবাণুর সংক্রমণ হতে রক্ষা করে। তাই ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে বাঁচতে শীতের সময় প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। যারা নিরামিষ খান তারা ডাল, সয়াবিন, টফো (দই জাতীয়), মাশরুম, বাঁধাকপি খেতে পারেন। আমিষভোজীদের জন্য ডিম, মাছ, মুরগি, সামুদ্রিক এবং চর্বি ছাড়া মাংস খেতে পারেন।

জিংক বা দস্তা: সেলেনিউম বা দস্তা জাতীয় খনিজ পদার্থ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বাদাম, শস্য, সাদা মাংসে জিংক বা দস্তার ভালো উৎস। তাছাড়া, ব্রকোলি (এক ধরনের ফুলকপি), বাঁধাকপি, শাক এবং বাদামি চালে সেলেনিউম পাওয়া যায়। জিংক, সেলেনিউম বাজারে ট্যাবলেট আকারেও পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এই ধরনের ট্যাবলেট গ্রহণ করা উচিত।

পানি: শীতের সময় আমরা তৃষ্ণার্ত হই কম, তাই পানিও কম খাওয়া হয়। যার কারণে আমরা ডিহাইড্রেশনে ভুগি। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা উচিত। যা বিভিন্ন রোগের সংক্রমণের হাত থেকে আমাদের বাঁচাবে। আপনি ইচ্ছে করলে স্যুপ, ভেষজ চা (তুলসি, পুদিনা, চামোমিল, জেসমিন- যা নাক পরিষ্কার রাখে) খেতে পারেন।

হলুদ: হলুদ প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও ভাইরাস প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। প্রতিদিন আধা চামচ প্রাকৃতিক হলুদ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

সিলভার বা রূপা: বিশ্বাস করুন বা নাই করুন সিলভার বা রূপা শুধু গহনা হিসেবে নয়, এর খনিজ উপাদান আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে। সিলভার বা রূপার তৈরি তৈজসপত্রে পানি বা খাবার খেতে পারেন। পানির বোতল ছোট সিলভার বা রূপার পয়সা রাখতে পারেন। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস প্রতিরোধে কাজ করবে।

ভিটামিন-সি: আমলা এবং অ্যাসিডজাতীয় ফল কমলা, লেবু, পেয়ারা, বাতাবি লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো, ভিটামিন-সি ট্যাবলেট খেতে পারেন। ভাইরাস প্রতিরোধে ভিটামিন-সি কার্যকরী ভূমিকা রাখে

Leave a Reply