শিক্ষিত মা এর ঘড়ই একটি স্কুল: শেখ আফিল উদ্দীন

মোঃ জাকির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা : যশোর-১ (শার্শা) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল প্রতিটি ঘর হবে এক একটি স্কুল “মা” কথাটি খুবই ছোট্ট কিন্তু বর্ণনা অনেক। যাকে নিয়ে সারাদিন ধরে কথা বলা যায় কিন্তু মা’য়ের গুণের কথা বলে শেষ করা যায় না। যিনি দীর্ঘমাস শত যন্ত্রণার মাঝেও সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন আর ভূমিষ্ট হওয়ার পর লালন পালন করেন। তখন ছোট্ট শিশুটির সাথে কতো কথাই না বলেন “মা”। স্বপ্ন দেখান তোকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলব, ডাক্তার বানাবো, ইঞ্জিনিয়ার বানাবো, বিসিএস ক্যাডার বানাবো, এমনকি দেশের প্রধাণমন্ত্রী বানাবো। তাই, সকল মায়ের কাছে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করে বলি! “মা” তুমি আমাকে একটি সু-সন্তান দাও, দেশ তোমাকে উন্নত রাষ্ট্র উপহার দেবে।

রবিবার বেলা ১১টার সময় নাভারন ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত “মা” সমাবেশ ও নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়ায় নাভারণ ডিগ্রি কলেজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

নাভারন ডিগ্রি কলেজের প্রধান অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে ও কলেজের শিক্ষার্থী মুস্তাকিম জামান ও সাদিয়া তাসলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত “মা” সমাবেশে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি আরো বলেন, লজ্জিত কন্ঠে বলতে হয় দুঃখের বিষয় আমার আগে এই কলেজে কোন এমপি মায়েদের আমন্ত্রণ দিয়ে কোন চিঠি দেয়নি৷

ইসলামের একটি উক্তি মনে করিয়ে দিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, মায়েরা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রথম৷ সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখন মা নিজের জন্য না খেয়ে সন্তানের জন্য খেয়েছেন, সাবধানে চলাফেরা করেছেন যেন গর্ভে থাকা সন্তানের কোন ক্ষতি না হয়। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বড় হয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয় এটাই মা সবসময় চান। এই পৃথিবীতে মা’ই সন্তানের সবচেয়ে আপনজন। মা’ই প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাই, জন্মের পরে “মা” তুমি সন্তানকে আদরের সাথে যে স্বপ্নগুলী দেখিয়েছিলে তা ওয়াদা ভেবে বাস্তবে রুপান্তরিত করো। তাতে শার্শা উপজেলার সকল মা-বাবা তার সন্তানকে সু-সন্তানে পরিণত করতে আর্থিক কষ্ট পেলে তার কিছুটা দ্বায়ভার আমাকে দিও। কিন্তু লক্ষ্য একটাই প্রত্যেক সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে সু-সন্তানে পরিণত করতে। তাহলে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রুপকল্প ২০২১-৪১ গঠনে খুবই সহায়ক হবে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, যশোর জেলার শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ উদ-দৌলা অলোক সরদার, শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, আলেয়া ফেরদৌস, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শার্শা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়ারাব হোসেন, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন রুবেলসহ ছাত্রলীগ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, সূধী সমাজ, অত্র নাভারন ডিগ্রি কলেজর সকল অবিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কোমলমতী শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথিকে কলেজের শিক্ষকবৃন্দগণ ক্রেষ্ট উপহার ও চাদর পড়িয়ে দেন। এর আগে কলেজের শিক্ষার্থী ও রোভার স্কাউটস দল প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়৷