শিক্ষকরা ডাকসু নষ্ট করে ফেলেছেন: দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বর্তমান ভিসির ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম উপাচার্য আগে কখনো দেখিনি। এই শিক্ষকরা ডাকসু নষ্ট করে ফেলেছেন। এদেরকে শিক্ষক ভাবতে আমার কষ্ট হয়।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি, সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলার রায় বাতিলের দাবিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে ৭১ বছর বয়সে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে সরকার। তাকে সুচিকিৎসা দেয়ার আদালতের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। আমরা এই সরকারের নৃশংসতার প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছে মানে, গণতন্ত্র কারাগারে। তিনি জেলখানায় থাকার অর্থ হচ্ছে এটা কোনো সভ্য দেশ না। এদেশে কোনো আইনের শাসন নাই, এটি বসবাসের অযোগ্য একটি দেশ।

দুদু বলেন, যে দেশের গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, সেই দেশে নির্বাচন তো দূরে থাক, গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও নেই। একটি লজ্জাহীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেন ইভিএম থাকলে রাতে ভোট বাক্স ভর্তি হতো না। অন্য এক সাবেক ব্রি. জেনারেল নির্বাচন কমিশনারও একই কথা বলেন।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে দুদু বলেন, ‘সরকারকে বলব অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। এতদিন দেশে আন্দোলন হয়নি বলে ভাববেন না, আগামীতে আন্দোলন হবে না। এদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ধ্বংস হয়েছে আর, রাজনীতিবিদরা বসে আছে এরকম ইতিহাস কখনো হয়নি।

কৃষক দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু আরও বলেন, যখন বিএনপি থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের ঘোষণা আসবে তখন সবাইকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাষ্টার, সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার, জিয়াউল হায়দার পলাশ, মাইনুল ইসলাম, মো. আলিম হোসেন, অধ্যাপক সেলিম হোসেন, মোজাম্মেল হক মিন্টু, মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রাজি প্রমুখ।