শাহ আলমগীরকে অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরবিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে জানাজা শেষে পিআইবির মহাপরিচালক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি শাহ আলমগীরের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি যখন ভেপু বাজিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলো তখন শত শত সহকর্মীর চোখে জল। বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত নবীন-প্রবীণ গণমাধ্যমকর্মীদের অকৃত্রিম ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হন মিডিয়া অঙ্গনে ‘ভালো মানুষ’হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত প্রবীণ সংবাদিক শাহ আলমগীর।

সুদীর্ঘ ৪০ বছর তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাইতো আজকের বিরূপ আবহাওয়া ও বৃষ্টির চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে এ ভালো মানুষটির জানাজায় অংশগ্রহণ করতে শুধু সাংবাদিকরাই নন, ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছেন বর্তমান ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সাহিত্যিকরা। সবার মুখে একই কথা, ‘তার মতো ভালো মানুষ আর হয় না। চালচলন, কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও হাসিমুখের এ মানুষটা বড্ড তাড়াতাড়ি বিদায় নিলেন।’

শাহ আলমগীরের কর্মস্থল প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) থেকে তার মরদেহ পূর্বঘোষিত সময় বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনা হয়। মরদেহ আনার আগে থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোল্লা জালাল, ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য়।

বক্তৃতাকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি বলেন, ‘শাহ আলমগীরের মৃত্যুতে মনে হচ্ছে আমার প্রথম মৃত্যু হলো। তার সঙ্গে আমার ছেলেবেলা থেকে বন্ধুত্ব। একই সময়ে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদের হাটের সদস্য হিসেবে এক সাথে চলা ও সাংবাদিকতা শুরু। একজন ভালো মানুষ বলতে যা বোঝায় তার সব গুণ শাহ আলমগীরের ছিল। তার মৃত্যুতে গণমাধ্যমের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল।’

জানাজা শেষে প্রথমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি, বিএফইউজে, ডিইউজের নেতারা মরদেহে শেষবারের মতো ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এরপর তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শ্রদ্ধা জানান। তারপর একে একে প্রথম আলো পরিবার, চ্যানেল আই, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা, নগর সাংবাদিক ফোরাম, ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম নেতারা ফুল দিয়ে শেষশ্রদ্ধা জানান।

শাহ আলমগীর সিএমএইচে চিকিৎসাধীন সময়ে সার্বক্ষণিক চিকিৎসার তদারককারী সাংবাদিক রহমান মোস্তাফিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যেদিন তিনি অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হন সেদিন ভর্তির আগে আমি কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও শাহ আলমগীর ফোন রিসিভ করেননি। সাধারণতো তিনি এমনটা করেন না। ৩০-৪০ মিনিট পর মোবাইল ফোনে শাহ আলমগীরের বাসা থেকে ফোন করে উনাকে সিএমএইচ এ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে সম্ভব হলে সেখানে যেতে বলা হয়। সেই থেকে মৃত্যু ঘোষণা পর্যন্ত আমি হাসপাতালেই ছিলাম।’

এ সময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে রহমান মোস্তাফিজ কান্নায় ভেঙে পড়ে মাফ চেয়ে বলেন, ‘উনার সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না।’

রফিকুল হক দাদুভাই। দৈনিক যুগান্তরের ফিচার সম্পাদক। প্রবীণতম এ সাংবাদিক জানান, তার হাতে স্বাক্ষর করা নিয়োগপত্রের মাধ্যমে শাহ আলমগীরের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। এ ছাড়া চাঁদের হাটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হওয়ায় চাঁদের হাটের সদস্য শাহ আলমগীরের সাথে তার ছেলেবেলা থেকেই সম্পর্ক। কথা বলতে গিয়ে তিনি বার বার কেঁদে ফেলেন।

পিআইবির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, শাহ আলমগীরের রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া, ডায়াবেটিসসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আজ সকাল ১০টায় লাইফ সাপোর্টে রাখা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।