শাল্লায় একই গ্রামের ৭টি গরু চুরি

সুনামগঞ্জ (শাল্লা) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার হাওর বাওয়র অঞ্চল শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউপি’র নওয়াগাঁও গ্রামের ৩টি বাড়ি থেকে ৭টি গরু চুরির খবর পাওয়া গেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। নওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বনমালী দাস বলেন, ওই রাত শেষে ভোরবেলায় গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখি আমার ৪টি গরু নেই। তিনি আরো জানান, তার গ্রামের তাপস চন্দ্র চন্দের ২টি ও রাজচরণ দাসের ১টি গরু গোয়াল ঘর থেকে চুরি হয়। এব্যাপারে বনমালী দাসের ছেলে অজিত চন্দ্র দাস শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। বনমালী দাসের সন্দেহ চুরের গাঁও কামারগাঁওয়ে ওই গরুগুলো রয়েছে।
এব্যাপারে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, গরু চুরির একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সাথে সাথে পুলিশ গরুগুলো উদ্ধারে তৎপর রয়েছে। গরুগুলো উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, কামারগাঁও, উজানগাঁও, চিকাডুবি, বল্লভপুর ও জাতগাঁও চোরের গ্রাম হিসেবে অতি পরিচিত ছিল। ওইসব গ্রামের লোকদের পেশাই ছিল চৌর্যবৃত্তি। ওরা শাল্লা উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী জেলাসমূহের বিভিন্ন গ্রামে গরু, স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘরের আসবাবপত্রও চুরি করতো। এলাকার মানুষ তাদের চুরি হওয়া গরু ও স্বর্ণালঙ্কার নগদ মূলে ওইসব চুরের গ্রাম থেকে ফিরিয়ে আনতো। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় বেশ কয়েক বছর ধরে এসব চুরি বন্ধ হয়। বর্তমানে ওইসব চুরের গ্রামের চৌর্যবৃত্তির লোকেরা জীবিকা বিকল্প হিসেবে চোলাই মদ তৈরি করে তা বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা শুরু করে। স্থানীয় পুলিশের বিশেষ অভিযান ও এলাকার সচেতন মানুষ তাদের মদ তৈরির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আবারও তারা সেই চুরির পেশাই শুরু করে। আবারও পূর্বের ন্যায় চোরের উৎপাত শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী রয়েছে আতঙ্কে।