শাবিতে র‌্যাগিংয়ের সময় যেসব কথায় ছাত্রী অজ্ঞান!

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। র‌্যাগিং এমন পর্যায়ে করা হয়েছে সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। এনিয়ে শাবিতে তোলপাড় চলছে। আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এমনকি র‌্যাগিংয়ের ওই ঘটনা নিয়ে শাবি ক্যাম্পাসে দুই দল ছাত্রের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এমন কী ঘটনা ঘটেছিল যে র‌্যাগিংয়ের সময় ওই ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। ক্যাম্পাসলাইভের অনুসন্ধান, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, ওই ছাত্রীর বন্ধু-বান্ধব ও চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানা অজানা তথ্য। বিষয়টি এখন ক্যাম্পাসে ওপেন সিক্রেট হলেও অনেকেই এটা যৌন হয়রানি নয় বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে র‌্যাগিং কোন যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে না!!!
চলুন জেনে নেয়া যাক সেদিন কী ঘটেছিল। বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষে গণিত বিভাগের নবীন কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ক্যাফেটেরিয়ায় ডেকে নিয়ে যায় একই বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা। এসময় রাকিব, মোশারফ, মাহমুদুলসহ বেশ কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে ঘিরে ধরেন শিক্ষার্থীরা। এর আগেও ওই ছাত্রীকে তারা বেশ কয়েকবার র‌্যাগিংয়ের নামে হয়রানি করেছে। আবারও তাকে র‌্যাগ দেয়া শুরু করে ওই ছাত্ররা। এসময় ওই ছাত্রীর মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়। সে প্রেম করে কিনা এসব বিষয় জানতে চাওয়া হয়। তার এসএমএস চেক করা হয়। একসময় আপত্তিকর এমন একটি কথা বলা হয় যাতে ওই ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জানা গেছে, ওই ছাত্ররা ছাত্রীটির একটি গোপন বিষয় (আপত্তিকর) চেক করতে চেয়েছিল। এটা মেনে নিতে পারেনি ছাত্রীটি। আর বিষয়টা এতো বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যাবে তা উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরাও আঁচ করতে পারেননি।

ওই ছাত্রীর চাচাতো ভাই বিবিএর ছাত্র সালমান জানান, র‌্যাগিংয়ের নামে তার বোনকে চরমভাবে নাজেহাল করা হয়েছে। ছাত্রদের উদ্দেশ্য ভালো ছিল না। কারণ এর আগেও আমার বোনকে তারা বেশ কয়েকবার নাজেহাল করেছে। র‌্যাগিংয়ের নামে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সে আমার সঙ্গে শেয়ার করলে জানাই ভার্সিটিতে এমন একটু আধটু হয়েই থাকে। তারপরেও লজ্জায় আমার বোন বুধবার ক্যাম্পাসে আসেনি। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে আসলে আবারো তাকে ওই ছাত্ররাই র‌্যাগিংয়ের নামে হয়রানি করেছে।

ক্যাফের ছাদে ডেকে নিয়ে তার মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়েছে। এসময় সে কার কার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে, কার সঙ্গে প্রেম করে এসব ব্যাক্তিগত বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। এসময় আমি ওর মোবাইলে ফোন করলে ছেলেদের কন্ঠ পেয়েছি। এটা কোন ধরনের র‌্যাগিং। ছাত্রীদের এসব গোপন জিনিস জানার অধিকার কে দিয়েছে। ওই ছাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান বলেন, এবিষয়ে তার বোন তাকে কিছু বলতে চাননি। যেসব বিষয় শেয়ার করা যায় তাই তার সঙ্গে শেয়ার করেছে। কিন্তু তার সঙ্গে আরো খারাপ কিছু হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই ছাত্রী। তবে ক্যাফে থেকে নামার পর ওই ছাত্রী দুইবার অজ্ঞান হয়ে যায়। বার বার তাকে টার্গেট করে র‌্যাগ দেয়া হয়েছে। এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য ছিল। ওই ছাত্ররা আমার বোনের কাছে এমন একটি আপত্তিকর বষয় জানতে চেয়েছে যেটা ভাষায় প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। ওই কথা শোনার পরেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে বেশ কয়েকদিন ধরেই নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিল একই বিভাগের বেশ কয়েকজন ছাত্র। তারা ওই ছাত্রীকে শহীদ মিনারে ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাধিকবার যৌন হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিষ্ট হয়ে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়েও আসতে পারেননি।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীকে ক্যাফেটেরিয়ার ছাদে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করে ওই ছাত্ররা। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী হয়রানি সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এঘটনার প্রতিবাদ করায় সিনিয়র শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা। এসময় ওই ছাত্রীর ভাই সালমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতরা হলেন, গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম রাকিব, মাহমুদুর রহমান, মোশারফ এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাজু। তারা সবাই হলে থাকেন। ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে অবস্থান করেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে র‌্যাগিংয়ের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এব্যাপারে ইতিমধ্যে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন শাবি প্রক্টর প্রফেসর কামরুজ্জামান চৌধুরী।