শমী কায়সারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা বানাসাস’র

খবর বিজ্ঞপ্তি : অভিনেত্রী শমী কায়সার নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলো বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতি (বানাসাস)। আজ (রোববার) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বানাসাস আয়োজিত মানববন্ধনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি নাসিমা সোমা।

সভাপতি নাসিমা সোমা বলেন, একজন শহীদ সাংবাদিকের মেয়ে হয়ে পিতার পেশার উত্তরসূরিদের ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে শমী কায়সার প্রকারান্তরে তার পিতাকেই অসম্মান করেছেন। তার মতো একজন অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাওয়া এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়।

তিনি আরও বলেন, আজকের মানববন্ধন থেকে তাকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি শিগগিরই প্রেসরিলিজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আনজুমান আরা শিল্পী, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) এর সাবেক সহ-সভাপতি লিটন এরশাদ, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক জাওহার ইকবাল খান, সদস্য ফাতিমা মুন্নি।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কারনিনা খোন্দকার, আকলিমা খাতুন, শেখ রাজিয়া সুলতানা, হালিমা খাতুন, বিনা, সাংবাদিক নেতা শামসুল আলম সেতু, আহমেদ তেপান্তর, শামসুন নাহার, মাসুদ, স্বর্ণা মুন্নি, তাসলিমা, নাজু প্রমুখ।

এর আগে বানাসাস অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব)’র প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য গত শনিবার রাত ১২টা অব্দি সময় বেঁধে দিয়েছিল। অন্যথায় রোববার থেকে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করবে বলে জানান সংগঠনটি।

গত শনিবার এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি নাসিমা সোমা, সাধারণ সম্পাদক আনজুমান আরা শিল্পী এ কথা জানান। কিন্তু শমী কায়সার নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়ায় সংগঠনটি আজ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

ইতোপূর্বে বেশ কয়েকটি সংগঠন তাকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলেও তিনি ক্ষমা চাননি। যা এক ধরনের ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্ব্যপূর্ণ আচরণ। শুধু তাই নয় একজন সেলিব্রিটি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘মোবাইল ফোন হারানোর’ সূত্র ধরে যে আচরণ করেছেন তা সেলিব্রিটিদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মতো একজন অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পর্যটন বিষয়ক সাইট ‘বিন্দু৩৬৫’র উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে শমী কায়সার হঠাৎ লক্ষ্য করেন তার দুটো ফোন সেটই খোয়া গেছে। এর পর পরই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রেসক্লাবের হলকক্ষ বন্ধ করে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সবার দেহ তল্লাশির নির্দেশ দেন তিনি।

এসময় যাদের দেহ তল্লাশি হয়েছে তাদের কেউ কেউ পেশাগত কাজে বের হতে চাইলে তার উদ্দেশ্যে ‘চোর’ বলে ওঠেন তিনি। পরে অনুষ্ঠানে থাকা ক্যামেরা পারসনদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক দিতে আসা লোকদের কেউ একজন তার ফোন নিয়ে চলে গেছে।