লালমনিরহাটে বন্যায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

আঞ্চলিক (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা : টানা ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে বহু ফসলি ক্ষেত। পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি।

হাতীবান্ধায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে সোমবার রাতে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় ওই এলাকায় দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।

পানির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেটই খুলে দেয়া হয়েছে। এতে ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রামসহ কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে কয়েক হাজার একর আমন ধানের ক্ষেতসহ অনেক ফসলি জমি।

হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামে ভেসি বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এ বাঁধ ভেঙে গেলে তিস্তার পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়বে। ইতোমধ্যে চর এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে তিস্তা ব্যারেজ রক্ষায় পাউবো ‘ফ্লাড বাইপাস’ কেটে দিতে পারে। এ বাঁধ কেটে দিলে গোটা লালমনিরহাট জেলার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।