লাখো মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ

একটি নয়, দু’টি নয়, লাখো মোমবাতি। মুহূর্তেই অন্ধকার ছাপিয়ে লাখো মোম জ্বলে ওঠে। আলোয় আলোকিত হয়ে যায় নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের বিশাল খেলার মাঠ। মোমবাতির আলোয় শহীদ মিনার, আল্পনাসহ বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এ ছাড়াও ৬৫টি ফানুস ওড়ানো হয়।

‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’- এ স্লোগানে রোববার সন্ধ্যায় নড়াইলে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। মোমবাতি প্রজ্জ্বলন উদ্বোধন করেন প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান।

আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার জানান, ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৯৯৮ সালে নড়াইলে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শুরু হয়। প্রথমবার নড়াইলের সুলতান মঞ্চসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০হাজার মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর থেকে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ খেলার মাঠে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে। এবার এক লাখের বেশি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। ওড়ানো হয় ৬৫টি ফানুস।
নাট্য অভিনেতা মিলন ভট্টচার্য জানান, শহীদ মিনার, আল্পনাসহ দৃষ্টিনন্দন নকশা উপস্থান করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। বর্ণাঢ্য এই আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ এসে উপস্থিত হন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ খেলার মাঠে। বর্ণিল আলোয় আলোকিত হন দর্শনার্থীরা।

পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দর্শনার্থীরা বলেন, মোমবাতির আলোয় অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন অন্য কোথাও দেখা যায় না। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ছাড়াও একুশের কবিতা, গান, গণসঙ্গীতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলামসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।