রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ছাড়ুন, সরকারকে রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘নতজানু’ দাবি করে তা থেকে বেরিয়ে এসে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বলেছেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও হামলায় আমরা উৎকণ্ঠিত। সমগ্র বিশ্ব বিবেক প্রতিবাদে জাগ্রত। কিন্তু বর্তমান সরকারের কোনো জোরালো অবস্থান, কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তাদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ছেড়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে রিজভী এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার শুধু দায়সারাভাবে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কিছু কথা বলে ছেড়ে দিচ্ছে। কারণ বর্তমান সরকার গণবিরোধী সরকার, তারা জনগণের রায়ে নির্বাচিত নয়। জনগণের সরকার হলে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতো।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সুচিকে সমর্থন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমরা হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি কীভাবে ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সমর্থন করেন। অং সান সুচি এক সময়ে বিশ্ববাসীর কাছে একটি মডেল ছিলেন। কিন্তু সুচি ম্যান্ডেলার মতো আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছেন।বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। নেই কূটনৈতিক তৎপরতা। তারা দায়সারাভাবে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কিছু কথা বলে ছেড়ে দিচ্ছে।মানববন্ধনে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন সুপরিকল্পিত। এদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের সরকারের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজীজ উলফাতের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।