রোহিঙ্গারা ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারের নাগরিক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গারা ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারের নাগরিক বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।
রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয়ক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রমাণপত্র ছাড়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ঢুকতে দেয়া হবে না সেদেশের একজন কর্মকর্তার বক্তব্যের প্ররিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সিকিউরিটি কাউন্সিল সদস্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সদস্য বলেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ছাড়া কাউকেই গ্রহণ করবে না মিয়ানমার। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কীভাবে প্রমাণপত্র থাকবে?’
মাহমুদ আলী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। এটা ঐতিহাসিক সত্য। বিভিন্ন গবেষণা এবং ইতিহাসের পাতায় সেসব লিপিবদ্ধ আছে।’ মন্ত্রী এ সময় মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
এ সময় সাংবাদিকদের ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচেরি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, এই সহিংসতায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গা মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।’
কূটনৈতিক ব্রিফিং শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রিফম্যান জানান, কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন পরামর্শক কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়ন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সিনেটে রোহিঙ্গা বিষয়ে একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিবৃতি দিয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে গণহত্যা শুরু করলে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসা শুরু করে রোহিঙ্গারা। এরই মধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।