রোহিঙ্গাদের নিরাপদে দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের প্রতি জাতিসংঘের আহ্বান

ঢাকা, ১৪ মার্চ, ২০১৮ : বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপো আজ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে নিরাপদে ফেরত পাঠানোর জন্য ‘যথাযথ পরিবেশ’ তৈরির জন্য মিয়ানমারের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দু’দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমে এবং সর্বাগ্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে দেশটির অন্য যেকোন ‘নাগরিকের মতো একই অধিকার এবং নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার উপযুক্ত’ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নৃশংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এই সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এহসানুল হক।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ইমতিয়াজ আহমেদ কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন।
ভিসি রোহিঙ্গা মুসলিমসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইট স্টাডিজ-এর পরিচালক প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর সাদেকা হালিম এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর এহসানুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ইমতিয়াজ আহমেদ তার প্রবন্ধে ‘ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং অন্যান্য মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো যেমন- থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং জাপানসহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর একটি সম্মেলন আহ্বান করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই পর্যায়ে সম্মেলনের চিন্তা করা দরকার। একটি সম্মেলন হবে যেসব দেশে রোহিঙ্গারা উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে তাদের নিয়ে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হবে জাতিসংঘের অধীনে অথবা বাইরে যেসব দেশ বিষয়টির সমাধান চায় তাদের নিয়ে।’
ঢাবি’র সেন্টার ফর জেনোসাইট স্টাডিজের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ইমতিয়াজ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে পাঁচটি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোর মতামতের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা।